Alexa আওয়ামী লীগের শত্রু দলেই

ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

শেরপুরের নালিতাবাড়ী-নকলা

আওয়ামী লীগের শত্রু দলেই

 প্রকাশিত: ১৬:১৯ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে নালিতাবাড়ী-নকলা (শেরপুর-২) আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জোট, মহাজোটে কে হচ্ছেন প্রার্থী এ নিয়ে জনমনে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তৎপরতাও লক্ষ্য করার মতো। নকলা-নালিতাবাড়ীতে আওয়ামী লীগে ঐক্য নেই প্রায় ২২ বছর ধরে। নেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থা।

বিশেষ করে নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগে যেমন বিভেদ রয়েছে, তেমনি আছে পরস্পরকে কোণঠাসা করার রাজনীতি। ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে বেড়েছে দূরত্ব ও হতাশা। এলাকার এমপি ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বদিউজ্জামান বাদশা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম উকিল এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুর রহমান লেবুর মধ্যে দৃশ্যমান টানাপড়েনে এখানকার আওয়ামী লীগ বহুধারায় বিভক্ত।

দীর্ঘ ২২ বছর ধরে চলা এ বিভেদ ও বিভক্তির রাজনীতির লাগাম এখনই টেনে ধরা না হলে আগামী নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ভোট প্রার্থনা করে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। অন্যদিকে তার মনোনয়ন ঠেকাতে কেন্দ্রে জোর লবিং করছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বদিউজ্জামান বাদশা। মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।

কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা বলেন, আমরা মতিয়া চৌধুরীর বিরোধীতা করছি না, আসন রক্ষার আন্দোলন করছি। মতিয়া চৌধুরীকে মনোনয়ন দিলে আসনটি নিশ্চিত হারাতে হবে। তাই আমি প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছি।

অন্যদিকে দলের অনিয়মের প্রতিবাদ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য মাঠে রয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুর রহমান লেবু। তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীকে সক্রিয় রাখার জন্য ‘দেশরত্ন জনঐক্য পরিষদ’ গঠন করে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। তার সঙ্গে আছে স্থানীয় নেতাকর্মী ও শ্রমিক সংগঠন।

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সরকার গোলাম ফারুক বলেন, শেরপুর-২ আসনে পরিবর্তন দরকার। মতিয়া চৌধুরীর একক নেতৃত্বের কারণে স্থানীয় নেতৃত্ব ধ্বংসের পথে। এভাবে চলতে থাকলে এখানকার আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই আমরা মতিয়া ছাড়া নৌকার দাবিতে মাঠে নেমেছি। এ পরিবর্তনের কাণ্ডারি হতে পারেন বদিউজ্জামান বাদশা।

অন্যদিকে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক বলেন, যারা স্থানীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দিবাস্বপ্ন দেখছেন, তারা আসলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্ষতি করছেন।

নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মতিয়া চৌধুরীর তুলনা কারো সঙ্গেই চলে না। তিনিই হবেন আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রার্থী।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম উকিল বলেন, দলের স্বার্থেই নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা উচিৎ।

আওয়ামী লীগের বিভেদ কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জাতীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হায়দার আলী।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কের মধ্যে কিছু কোন্দল থাকলেও স্থানীয় পদ-পদবি নিয়েই তা সীমাবদ্ধ। জাতীয় নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা। জাতীয় নির্বাচনে যিনিই মনোনয়ন পাবেন তার পক্ষে সবাই নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এদিকে জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি শওকত সাঈদ ও জাতীয় পার্টির নির্বাহী কমিটির সদস্য তালুকদার রোজী সিদ্দিকী নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সভা সমাবেশ করছেন।

এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে।

>>>কাল থাকছে শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী উপজেলার রাজনীতি...

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে