ঢাকা, শনিবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৪ ১৪২৫,   ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪০

বাল্যবিয়ে

আইন আছে, প্রয়োগ নাই

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৭:৩৫ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:২১ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সুনামগঞ্জে ১১টি উপজেলায় বাল্যবিয়ে রোধে আইন আছে, প্রয়োগ নাই। সবার অগোচরে আবার কখনো প্রকাশ্যেই হচ্ছে বাল্য বিয়ে।

যা সরকারী ঘোষিত আইনে নিষেধ। প্রশাসন বা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ এই বিষয়ে কার্যকর প্রদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

এছাড়াও সরকারীভাবে এই জেলার প্রতিটি উপজেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও হচ্ছে বাল্য বিবাহ। ফলে সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।

জেলার হাওর বেষ্টিত শাল্লা উপজেলায় বাল্যবিয়ে প্রতিকার না হওয়ার ফলে দিনের পর দিন এর প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ ২০১৬সালে শাল্লা উপজেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষণা করেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. জামাল উদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বাল্যবিয়ে হওয়ায় সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

আনন্দপুর গ্রামের এক নাবালিকা মেয়েকে পাশের রামপুর গ্রামের সৌকত দাস এর সঙ্গে বাল্যবিয়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে হেলেন রানী বাদী হয়ে চলতি বছরের ১মে শাল্লা থানায় মামলা(নং-৯) রুজু করেন। থানায় মামলা থাকার পরও দিরাই উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামে ছেলে মেয়েকে নিয়ে গিয়ে বাল্য বিয়েটি সম্পন্ন করা হয়। একই গ্রামের আরেক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে নিখোঁজ বলে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয় মেয়ের মা শাল্লাা থানায় একটি জিডিও(নং ৬১৮)করেন। পরে জানা যায় নবালিকা মেয়ের সঙ্গে আটগাঁও ইউপি’র দাউদপুর গ্রামের সনঞ্জিত দাস এর বাল্যবিয়ে হয়। একইভাবে মুছাপুর গ্রামে ১৬বছরের একটি মেয়ের বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

সচেতন এলাকাবাসী জানান, বাল্য বিবাহ বেশী হচ্ছে জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রাম গুলোতে। এসব হচ্ছে গ্রামের মাতাব্বর আর প্রভাবশালী দের ছত্রছায়ায়। বাল্যবিয়ে একটি সুন্দর জীবনের অপমৃত্যু ঘটে। এর ভাল দিক নেই আছে খারাপ দিক। তারপরও অপাপ্ত্য বয়স্ক ছেলে ও মেয়ের অভিবাবকগন সন্তানদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে বিপদের দিকেই ধাবিত করছে। তাদের সচেতন করার জন্য সরকারী ভাবে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।  

শাল্লা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ের বিষয়ে সাধারণত কেউ অভিযোগ করে না। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে