.ঢাকা, সোমবার   ২৫ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ১০ ১৪২৫,   ১৮ রজব ১৪৪০

বাকৃবিতে মাছ জাদুঘর

বাকৃবি প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৬:৩৩ ৮ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৬:৪৫ ৮ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মাছের অস্তিত্ব আজ ভয়াবহ হুমকির মুখে। দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নদী-নালা, খাল-বিল পাশাপাশি বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু মাছ। এদের রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অধ্যাপক  ড. মোস্তফা আলী রেজা হোসেনের উদ্যোগে ২০০৯ সালে স্থাপিত হয় ‘ফিশ মিউজিয়াম অ্যান্ড বায়োডাইভার্সিটি সেন্টার’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ হতে এক কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই জাদুঘর সংগ্রহ ও বৈচিত্র্যের দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ ‘মৎস্য জাদুঘর’।

এই মৎস্য জাদুঘরে স্বাদু পানির ২৮০ প্রজাতিসহ হাজার বছরের বিলুপ্ত প্রজাতির জীবাশ্ম  রয়েছে যা চারটি সুপরিসর গ্যালারিতে সাজানো হয়েছে। গ্যালারিতে প্রবেশের আগেই  চোখে পড়বে আবহমান কাল ধরে এ দেশের জেলেদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। বড় বড় কাচের সিলিন্ডারে এসব মাছ সংরক্ষিত আছে। বৈজ্ঞানিক নামসহ মাছের যাবতীয় বর্ণনা দেওয়া রয়েছে, যাতে ঐ মাছ সম্পর্কে একজন দর্শক পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করতে পারেন।

পূর্ব পাশের গ্যালারিতে ৮৭ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৮১ প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ রাখা হয়েছে। রয়েছে কার্প, পুটি, রুই, কাতলা, মৃগেল, মলা, চেলা, কালিবাউস, রানি মহাশোলসহ বিভিন্ন জাতের মাছ। পাশের গ্যালারিতে রয়েছে বোয়াল, মাগুর, শিং, টেংরা, পাবদা, বাতাসি, বাঘাইর প্রভৃতি।  এখানে ৬১ প্রজাতির মধ্যে ৫৩টি প্রজাতি স্থান পেয়েছে। অপর একটি গ্যালারিতে   স্থান পেয়েছে কই, চান্দা, বেলে, খলসে, ভেটকি, টাকি, শোল, পারশ মাছ ইত্যাদি।

এছাড়া অন্য একটি গ্যালারীতে স্থান পেয়েছে ইলিশ, চিতল, ফলি, কানপোনা, চাপিলা, কাকিলা, কাচকি, ফ্যাসা, পটকা, বাইম ইত্যাদি। আছে ২৮ বছর বয়সের ১৯৯ সেন্টিমিটারের লম্বা শুশুকের কঙ্কাল। রয়েছে বেশ কিছু সামুদ্রিক কাঁকড়া।

অপর একটি গ্যালারিতে রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক যুগের বিলুপ্ত মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর জীবাশ্মের প্রতিলিপি।  

স্টারলি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহায্যে যুক্তরাজ্য থেকে এই চমৎকার জীবাশ্মগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগ্রহে আছে ৪০টি জীবাশ্ম ও কঙ্কাল।

 

মাছের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং বিপন্ন প্রজাতির মাছগুলোর ব্যাপারে জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই মৎস্য জাদুঘরের মূল লক্ষ্য।

দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ