Alexa অ্যাসিল্যান্ড-ই ঠিকাদার!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৩ ১৪২৬,   ১৮ মুহররম ১৪৪১

Akash

অ্যাসিল্যান্ড-ই ঠিকাদার!

মো. মোবারক আলী, রাণীশংকৈল  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৩ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২৩:০৪ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল ভূমি অফিস ও দুটি ইউপির ভূমি অফিস সংস্কার এবং নির্মাণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে কিভাবে, কখন এসব কাজ হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট কেউ জানেন না। এসব কাজ কাগজে-কলমে দেখিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ চন্দ্র সাহা একাই করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলার আওতাধীন দুটি ইউপির ভূমি অফিস সংস্কারের জন্য পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। এছাড়া সংস্কারের জন্য বাচো ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে এক লাখ টাকা অনুদান নেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তবে এসব কাজের জন্য কোনো টেন্ডার আহবানের খবর পাওয়া যায়নি। সংস্কার ও নির্মাণ কাজে সরাসরি ঠিকাদারকে দেখতে পাননি রাজমিস্ত্রি, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তারা। তবে নামমাত্র ঠিকাদার দেখিয়ে কাজ হলেও কিছুই জানেন না ঠিকাদার। এছাড়া কমিশনারের লোকই রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকদের মজুরি দিয়েছেন। তাছাড়া দরপত্রের বিষয়টি জানেন না উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির নেতা। এসব সংস্কার ও নির্মাণে কোনো প্রকৌশলীকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাচোর ইউপি চেয়ারম্যান জিতেন্দ্র নাথ বর্স্মন বলেন, সংস্কার কাজের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ চন্দ্র সাহা বরাবরে এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছি। 

ঠিকাদার খায়রুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজেই সব কাজ করেছেন। তার অফিসের নাজির শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছেন। 

রাজমিস্ত্রি আমির আলী বলেন, কাজের ঠিকাদার আছে কিন্তু তাকে দেখিনি। আমাকে ভূমি অফিসের নাজির মজুরির টাকা পরিশোধ করেছেন। 

রাণীশংকৈল উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু তাহের বলেন, উপজেলা ভূমি অফিস ও দুটি ইউপির ভূমি অফিসের নির্মাণ ও সংস্কারের দরপত্রের ব্যাপারে কোনো খবর পাইনি।   

সংস্কার হওয়া ধর্মগড়-কাশিপুর ইউপির উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, ভূমি অফিসের সংস্কার কোন বরাদ্দ থেকে হয়েছে জানা নেই। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের পিয়নের তত্ত্বাবধানে অফিসের দরজা-জানালা, প্রাচীরের কাজ করান। এর বাইরে কিছু জানি না। তবে কোনো ঠিকাদার বা প্রকৌশলীকে আসতে দেখেননি তিনি। 

বাচোর ইউপির উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রহমত আলী জানান, কাজটি কিভাবে, কার অর্থায়নে হয়েছে জানা নেই। এক দিন ইট, সিমেন্ট, বালু নিয়ে এসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাজির। তিনি রাজমিস্ত্রি দিয়ে অফিসের ডান দিকে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করান। এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারেননি তিনি। 

রাণীশংকৈল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ চন্দ্র সাহার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত ডিসি আমিনুল ইসলাম (রাজস্ব) বলেন, কাজগুলি কোটেশনের মাধ্যমে হয়েছে। এমন প্রতিবেদনে দাখিল হয়েছে। তাছাড়া ইউএনও বা অ্যাসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলে দেখি, তারা কি বলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ