অ্যাসিড আক্রান্ত মমতাকে বিয়ে করে সুখে থাকতে চান লাকি

ঢাকা, রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৫ ১৪২৬,   ০৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

অ্যাসিড আক্রান্ত মমতাকে বিয়ে করে সুখে থাকতে চান লাকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:২৩ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভালোবাসা যে বাহ্যিক রূপ দেখে হয় না তার প্রমাণ দিলেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের লাকি সিং। অ্যাসিড আক্রান্ত এক বাঙালি তরুণী মমতা সরকারকে ভালবেসে বিয়ে করছেন তিনি। মার্চের ১০ তারিখ তাদের বিয়ে। 

অ্যাসিড আক্রান্ত হয়েও যে সমাজের আর পাঁচটা মেয়ের মতো পথ চলা যায় তা সমাজকে শিখিয়েছেন তেহট্টের বিনোদ নগরের মেয়ে মমতা। তেহট্টের মহকুমা কার্যালয়ে ক্যাজুয়াল কর্মী হিসেবে চাকরি করেন তিনি। ২০০৪ সালের ১৯ এপ্রিল পারিবারিক শত্রুতার জেরে মমতার এক নিকট আত্মীয় তার মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারে। 

আচমকা ওই ঘটনার পর ঠিকভাবে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি মমতা। পড়াশোনাও আর হয়ে ওঠেনি। মুখের আকৃতির পরিবর্তন হওয়ায় মানুষের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন তিনি। এরপর সেখানে থেকেই চালিয়ে ছিলেন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। অবশেষে ২০০৯ সালে নিজের মনকে ঠিক করে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে আবার পড়াশোনা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন মমতা। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিকও পাশ করেন।

মমতা বলেন, প্রথম প্রথম কয়েক বছর চোখ নিয়ে সমস্যা ছিল। এখন কিছুটা ভাল আছি। ভেবেছি এই ঘটনার পর বাড়িতে বসে থেকে কী হবে, মেয়ে মানেই তো বাড়িতে বসে থাকা নয়, মেয়েরাও পারে। এই সমস্ত কথা ভাবনা চিন্তা করেই ৬ বছর পর আবার পড়াশোনা শুরু করি। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে কোনও কোম্পানিতে কাজ করার চেষ্টা চালাই। পরের বছর সেই স্বপ্ন সফল হয়। দুর্গাপুরে একটি কোম্পানিতে চাকরি পাই। সেখানে বেশ কয়েক বছর কাটিয়েছি। 

তিনি জানান, দুর্গাপুরেই লাকি সিংয়ের সঙ্গে তার দেখা হয়। বন্ধু থেকে পরে লাকির কাছ থেকে বিয়ের প্রস্তাব পান মমতা। তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম ছেলেটি আমাকে নিয়ে খুশি থাকতে পারবে না। এছাড়াও ছেলেটিকে আমি চিনিও না জানিও না। তাই প্রথমে বিয়েতে রাজি হয়নি। কিন্তু পরে আমরা একে-অপরকে বুঝেছি, তারপরই বিয়ের জন্য রাজি হই। বাড়িতে বলার পর বাবা, মা ও ভাই প্রত্যেকেই বিয়েতে রাজি হন।

বাবা প্রফুল্ল সরকার ও মা অবলা সরকার বলেন, মেয়ে যখন নিজেকে সামলে সমাজের চলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তখন মেয়ের ভালোর জন্য আমরাও বিয়েতে রাজি। বিয়ের পর কৃষ্ণনগরে লাকি ও মমতা একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করেছে।

লাকি সিং বলেন, দুর্গাপুরে একটি কোম্পানিতে একসাথে কাজ করতে গিয়ে মমতাকে দেখে প্রথমে আমার দুঃখ লেগেছিল। তারপর ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করি। এরপর ধীরে ধীরে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাতে থাকি। তারপর ওকে বিয়ের প্রস্তাব দেই। যদিও এই সম্পর্ক মানতে চায়নি আমার পরিবার। তিন বছরের প্রেম ও এই সম্পর্কের কথা বাড়িতে জানানো হলে মা-বাবা মেনে নিতে চাননি। এই নিয়ে ভীষণ ঝামেলা হয়। মা-বাবা স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিয়ে করলে করতে পার, কিন্তু পরিবারের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখা যাবে না। তাই আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখিনি। কারণ আমি মমতাকে বিয়ে করে সুখে থাকতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস