অ্যামাজনে রহস্যজনক ফুটন্ত নদী, যে পানিতে মানুষও সিদ্ধ হয়ে যায়!

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

অ্যামাজনে রহস্যজনক ফুটন্ত নদী, যে পানিতে মানুষও সিদ্ধ হয়ে যায়!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩১ ১ জুন ২০২০  

ফুটন্ত নদী

ফুটন্ত নদী

বিশ্বের সর্ববৃহৎ জঙ্গল হচ্ছে অ্যামাজন । যে জঙ্গলে এখনো এমন কিছু রহস্য লুকিয়ে আছে যা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। দক্ষিণ আমেরিকার সাতটি দেশজুড়ে বিস্তৃত এই মহাজঙ্গলে প্রতিনিয়তই আবিষ্কৃত হচ্ছে অকল্পনীয় সব ব্যাপার। তেমনি এক রহস্যময় নদীর সন্ধান মিলেছে অ্যামাজন জঙ্গলে। তবে সেটি কোনো সাধারণ নদী নয়। এটি এক ‘ফুটন্ত নদী’। যে নদীতে নামলে আপনি একদম সিদ্ধ হয়ে যাবেন!

এমন নদীর গল্প আমরা কেবল রূপকথাতেই শুনেছি। এমন এক ফুটন্ত নদী, যেখানে গরম পানিতে পড়ে সিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় পশুপাখির। হাজার বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে সেই ফুটন্ত পানির নদীর গল্প শুনে এসেছি। রূপকথায় আরো আছে, স্প্যানিশ বিজেতারা স্বর্ণের খোঁজে অ্যামাজনের গহীনে গিয়ে ফিরে এসে বিষাক্ত পানি, মানুষ খেকো সাপ আর টগবগে ফুটন্ত নদীর গল্প শোনাতেন।

রূপকথার সেই ফুটন্ত পানির নদী এখন বাস্তবেই রয়েছে অ্যামাজনের গভীরে। ভাবতে অবাক লাগলেও এটি সত্যি। রূপকথার সেই নদীর সন্ধান মিললো এবার পেরুতে। নদীটি খুঁজে পেয়েছেন পেরুর ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানী আন্দ্রে রুজো।

জিওলজিস্ট আন্দ্রে রুজোও প্রথমে একথা শুনে অবাক হয়েছিলেন। ফুটন্ত নদী সত্যিই আছে একথা তার বিশ্বাস হয়নি। ১২ বছর আগে এক ফ্যামিলি গেট টুগেদারে দাদুর কাছে প্রথম ফুটন্ত নদীর কথা শুনেছিলেন রুজো। তবে তখন সেটা নিছক গল্প মনে হয়েছিল। যদিও এমন নদীর খোঁজ তিনি সবসময় চালাতেনই।

অবশেষে রুজোর কাকা জানান যে, তিনি এক ফুটন্ত নদীর কথা শুনেছেন যা অ্যামাজনে আছে। তবে সেকথায় খুব একটা ভরসা করতে পারেননি এই স্প্যানিশ জিওলজিস্ট। তার ধারণা একটি নদীকে ফোটানোর জন্য যে উত্তাপের প্রয়োজন তার জন্য আশপাশে অনেকগুলো আগ্নেয়গিরি থাকা দরকার। অ্যামাজনের এমন কিছু নেই। সুতরাং এমন কিছু হওয়া সম্ভব নয়। তবুও একবার নিজের চোখে যাচাই করতে পারি দিলেন অ্যামাজনের গভীর অরণ্যে। আর সেখানে গিয়ে তো তার চক্ষু চড়ক গাছ!

অ্যামাজনের ফুটন্ত নদীঅ্যামাজনের গভীরে পেরুতে আন্দ্রে রুজো দেখা পেলেন সেই আশ্চর্য নদীর। চার মাইল লম্বা এই নদী থেকে ধোঁয়া উঠছে যেমন ফুটন্ত জল থেকে ওঠে। আর নদীর জলে পড়ে রয়েছে নানারকম পশু-পাখীদের মৃতদেহ। জল খাওয়ার আশায় নদীতে নেমে তারা আর ফিরে আসতে পারেনি। এই নদীতে হাত দিতেই রুজো টের পেয়ে যান জলের উষ্ণতা। এই জলে একবার পড়লে মুহূর্তে গোটা মানুষও সিদ্ধ হয়ে যাবে, এমনই ওই জলের উত্তাপ!

গভীর অ্যামাজন জঙ্গলের রহস্যময় এই নদীর পানির গড় তাপমাত্রা প্রায় ৮৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। পানির এতো তাপমাত্রা দেখে আন্দ্রে রুজোর মনে প্রশ্ন জাগে এমন নদী রূপকথায় এলো কোত্থেকে?

নদীটি চওড়ায় ২৫ মিটার, গভীরতা ছয় মিটার। গরম পানির প্রবাহ আছে সোয়া ছয় কিলোমিটার জুড়ে। আর নিকটতম আগ্নেয়গিরি সাতশো কিলোমিটার দূরে। তবু পানির তাপমাত্রা ৮৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রুজোর দাবি, বিশ্বে এমন নদী এই একটাই। যার স্থানীয় নাম শানায়-তিমপিশকা অর্থাৎ সূর্যের তাপে টগবগে।

গবেষণায় রুজো দেখেছেন বৃষ্টির মতো একটি ঝর্ণার পানি এই নদীতে পড়ে প্রবাহিত হচ্ছে উল্টো দিকে। তাতেই প্রকাণ্ড এক জলবিদ্যুৎ তৈরির মতো করে পৃথিবীর ভূ-তাপীয় শক্তিতে গরম হয়ে উঠছে পানি। এমন প্রাকৃতিক কাণ্ড আর কোথাও এখনো মেলেনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ