Alexa অাজানের পদ্ধতি, বিধান ও ইতিহাস

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

অাজানের পদ্ধতি, বিধান ও ইতিহাস

 প্রকাশিত: ১৫:০৪ ৩১ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৫:০৪ ৩১ আগস্ট ২০১৮

আল্লাহ তায়ালার বড়ত্বের এ ধ্বনি প্রতিধ্বনি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে  উচ্চারণ করা হয়। যিনি আজান দেন তার মর্যাদাও আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে বেশি। কেয়ামতের ময়দানে মহা পুরস্কারে ভূষিত হবে মুয়াজ্জিন। তবে যারা আজানের জবাব দিবেন তাদের ফজিলতও কম নয়। জেনে নিন আজান ও আজানের জবাবের আদ্যোপান্ত।

আজান কাকে বলে?
আজান অর্থ ঘোষণা, ধ্বনি । পরিভাষায় আজান বলা হয়, শরিয়তে নির্ধারিত আরবী বাক্যসমূহের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে উচ্চকণ্ঠে আহ্বান আহবান করা। আজান সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে, ‘যখন তোমরা নামাজের দিকে আহবান কর, তখন তারা (মুশরিকরা) এ নিয়ে ঠাটা বিদ্রুপ ও কৌতুক করে। তা এ জন্য যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা উপলব্ধি করে না’ [সূরা মায়িদা : ৫৮]। অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘ওহে যারা ঈমান এনেছ! যখন জুমার দিনে নামাযের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহ্র স্মরণে তাড়াতাড়ি করবে ও বেচা-কেনা বন্ধ রাখবে। এইটিই হ”েছ তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা জানতে’ [সূরা জুমু’আ : ৯]।  

আজানের ইতিহাস:
রাসুল (সা.) মদিনায় আগমনের পরে মদিনার বুকে পুরোপুরি শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করলেন এবং ইসলাম সুদৃঢ় রুপ লাভ করলো। ততদিন পর্যন্ত নামাজের জন্য মুসলমানদেরকে ডাকার সেই সব পন্থাই অবলম্বন করা হচ্ছিলো, যা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের ভেতর প্রচলিত ছিলো। যেমন, ঘন্টা বাজানো, শিংগায় ফুঁ দেয়া, আগুনের মশাল জ্বালানো ইত্যাদি। কিন্তু রাসুল (সা.) এইসব রীতি অপছন্দ করলেন। এরপর মুসলমানরা কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা ও ডাক ছাড়াই নামাজের ওয়াক্তে আপনা আপনিই মসজিদে হাজির হয়ে যেতেন। এমনি মুহূর্তে আল্লাহ পাক আজান দ্বারা মুসলমানদেরকে ধন্য ও গৌরবান্বিত করেন এবং স্বপ্নের মাধ্যমে কোনো কোনো সাহাবিকে এর বাস্তব রুপ ও দৃশ্যও দেখানো হয়। এরপর রাসুল (সা.) এই আজানকেই নির্ধারিত করেন এবং ইসলামী আহ্বান হিসাবে এর প্রচলন ঘটানো হয়। এরপর আজান দানের এই মহান খেদমত হজরত বেলাল ইবনে রাবাহ হাবশীকে (রা.) সোপর্দ করা হয়। তিনি রাসুলের মুয়াজ্জিন উপাধিতে ভূষিত এবং কেয়ামত পর্যন্ত যত মুয়াজ্জিন আসবেন তাদের ইমাম হওয়ার অনন্য গৌরব লাভ করেন। সূত্র: নবিয়ে রহমত

আজানের বিধান: সকল ফরজ নামাজে পুরুষদের জন্য একবার আজান দেয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে  কেফায়া। শুধু জুমআর জন্য দুইবার আজান দেয়া ওয়াজিব। (সূত্র: রদ্দুল মুখতার)

আজানের উচ্চারণ ও অর্থ:

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার
অর্থ: আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ সর্বশক্তিমান
আশহাদু-আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু-আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দি”িছ যে, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই
আশহাদু-আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ, আশহাদু-আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দি”িছ যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত দূত, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত দূত
হাইয়া আলাস সালা, হাইয়া আলাস সালা    
অর্থ: নামাজের জন্য এসো, নামাজের জন্য এসো।
হাইয়া আলাল ফালা, হাইয়া আলাল ফালা
অর্থ: সাফল্যের জন্য এসো, সাফল্যের জন্য এসো,
আস সলাতু খাইরুম মিনান নাউম, আস সলাতু খাইরুম মিনান নাউম    
অর্থ: ঘুম হতে নামাজ উত্তম, ঘুম হতে নামাজ উত্তম (কেবল ফজর নামাজের আজানে উচ্চারণীয়)
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার
অর্থ: আল্লাহ্ মহান, আল্লাহ মহান
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ    
অর্থ: আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই

আজানের সুন্নত পদ্ধতি:
 
১. কোনো উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে আজান দিবে। জুম’আর ছানী আজান মসজিদের ভিতরে মিম্বরের সমানে দাঁড়িয়ে দিবে। ছানী আযান দেওয়ার জন্য প্রথম কাতারে দাঁড়ানো জরুরি নয়, যে কোন কাতার থেকেই আহান দেওয়া যায়, তবে খতীবের বরাবার দাঁড়ানো জরুরি। (শামী ১/২৫৭)
২. দাঁড়িয়ে আজান দিতে হবে। বসে আজান দেওয়া খেলাফে সুন্নত। বসে আজান দেওয়া হলে সেই আজান দোহরাতে হবে। তবে মা’যুর ব্যক্তি নিজের নামাযের জন্য বসে আজান দিতে পারবে।
৩. আজান যথাসম্ভব উচ্চস্বরে দিতে হবে।
৪. আজান দেওয়ার সময় উভয় হাতের শাহাদাত আঙ্গুল উভয় কানের ছিদ্রে রাখা মুস্তাহাব। (বেহেশতী জেওর)
৫. আজানের শব্দগুলি টেনে টেনে আদায় করবে। (তবে আল্লাহ শব্দের লামকে এক আলিফের বেশি টানবে না) এবং প্রতি দুই কালেমার পর এতটুকু সময় চুপ করে থাকবে যেন শ্রোতারা তার জবাব দিতে পরে। আর যদি জওয়াব দেওয়ার সময় না দেওয়া হয় তাহলে পুনরায় আজান দেওয়া মুস্তাহাব। (শামী ১/২৬০)
৬. আজানের মধ্যে ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ বলার সময় পূর্বে ডান দিকে মুখ ফিরাবে এবং ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলার পূর্বে বাম দিকে মুখ ফিরাবে। কিন্তু সীনা এবং পা ঘুরাবে না।
৭. ওযুর সাথে কেবলামুখী হয়ে আজান দিতে হবে।
৮. বিভিন্ন মসজিদে আজান হতে থাকলে নিজের মহল্লার মসজিদ বা যে মসজিদে নামাজ পড়বে সেই মসজিদের আজানের জওয়াব দেয়া মোস্তাহাব।
৯. আযানের ন্যায় ইকামতেও ডানে-বামে আগে মুখ ফিরিয়ে ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলবে।
১০. বড় নাপাকি (হদসে আকবার) অর্থাৎ পায়খানা পস্রাবের বেগ হতে পবিত্র হয়ে আজান দেয়া সুন্নত। নাপাক অবস্থায় আজান দেওয়া মাকরুহে তাহরীমী। যদি ফরজ গোসল না করে আজান দেয়, তবে পুনরায় আজান দিতে হবে। বিনা ওযুতে ইকামত দেওয়া মাকরুহে তাহরীমী। (বেহেশতী জেওর)
১১. তরতীব ঠিক রেখে আজান ও ইকামত দেওয়া সুন্নত। যদি কেউ আজানের মধ্যে পরের শব্দ আগে বলে, তবে সম্পূর্ণ, আজান দোহরাতে হবে না। শুধু যে শব্দটি ছেড়ে দিয়েছে সেই শব্দটি বলে তরতীব অনুযায়ী পরের শব্দগুলি বলবে। (বেহেশতী জেওর)
১২. সমস্ত ফরজে আইন নামাজের জন্য একবার আজান দেয়া সুন্নতে কেফায়া।
১৩. আজানের জওয়াব দেয়া বড় সওয়াবের আমল।
১৪. আযানের ন্যায় ইকামতের জবাব দিবে।
১৫. আযান শেষ হলে প্রথমে দুরূদ এবং দো’আ পড়বে। সূত্র: আহকামে জিন্দেগী

ডেইলি বাংলাদেশ/এসজেড