অস্ত্রোপচারের সময় সুর তুলছিলেন তিনি!

ঢাকা, রোববার   ২৬ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৬,   ২১ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

অস্ত্রোপচারের সময় সুর তুলছিলেন তিনি!

 প্রকাশিত: ১৯:১৯ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭   আপডেট: ১০:২৪ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ড্যান ফ্যাবিও পেশায় একজন শিক্ষক। সুরের তাল-লয়ের শিক্ষা দেন তিনি। কিন্তু মস্তিষ্কের টিউমার তাঁর জীবনটাকে এলোমেলো করে দিয়েছিল। সম্প্রতি টিউমারটি অপসারণ করতে অস্ত্রোপচার হয়েছে ফ্যাবিওর। মজার বিষয় হলো, অস্ত্রোপচারের সময়ও স্যাক্সোফোন বাজিয়েছেন ফ্যাবিও।

অবশ্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের সূত্র মেনেই কাজটি করা হয়েছে। মস্তিষ্কের যে অংশটি সুরের কাজটি পরিচালনা করে, সেই অংশের কাছেই টিউমারটি হয়েছিল। এতে করে অস্ত্রোপচারের পর ড্যান ফ্যাবিওর সুর করার ক্ষমতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও অধ্যাপকদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। তাঁদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। আর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার চলার সময়ই স্যাক্সোফোন বাজান ড্যান। এতে করে বোঝা যায় যে, এখনো সুর করার ক্ষমতা হারায়নি তাঁর মস্তিষ্ক।

ড্যানকে প্রাথমিকভাবে দেখছিলেন ওয়েব পিলচার নামের নামের এক নিউরোসার্জন। তিনি বলেন, ‘সুর করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার আশঙ্কায় ড্যান খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। কারণ এটি তাঁর পেশা। আবার এটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে আগ্রহের বিষয়। এমন জায়গায় টিউমারটি ছিল যে, একটু এদিক-সেদিক হলে টিস্যুর ক্ষতি হতে পারত। এর ফলে মস্তিষ্ক ওই টিস্যু ব্যবহার করে আর কাজ করতে পারবে না। অর্থাৎ ওই টিস্যুর নির্ধারিত কাজটি আর মানুষের পক্ষে করা সম্ভব হবে না।’

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ড্যানের বাদ্যযন্ত্র বাজানোর ক্ষমতা ঠিক আছে কি না, সেটি পরীক্ষা করার জন্য স্যাক্সোফোনটি ব্যবহার করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় ড্যানের পুরো মস্তিষ্ক স্ক্যান করা হয় এবং তা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তার জন্য নানা ধরনের পরীক্ষা করা হয়। টিউমারটি অপসারণের পরপরই ড্যানের হাতে তুলে দেওয়া স্যাক্সোফোনটি।

চিকিৎসকেরা আশা করছেন, কয়েক মাসের মধ্যেই শিক্ষকতার পেশায় ফিরে যেতে পারবেন ড্যান। তাঁরা বলছেন, প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত উন্নতি হচ্ছে ড্যানের।

তবে অস্ত্রোপচারের টেবিলে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত জুলাই মাসে একজন ভারতীয় সুরকার তাঁর মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার চলার সময় গিটার বাজিয়েছিলেন। সেটিও করা হয়েছিল ওই রোগীর মস্তিষ্কের সক্ষমতা বোঝার জন্য।

ডেইলি বাংলাদেশ/আর কে

Best Electronics