Alexa অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বেসিক ব্যাংক

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বেসিক ব্যাংক

মীর সাখাওয়াত সোহেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৬ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

কার্টুন: আনিস মামুন

কার্টুন: আনিস মামুন

নানা অনিয়ম আর খেলাপি ঋণের দায়ে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে। লোকসান কমাতে আর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নতুন যোগ দেয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আলম ব্যাংকটির ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ১ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মতিঝিলে বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে লোকসান কমাতে না পারলে ব্যাংকটি বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মূলত এরপর থেকে নড়েচড়ে বসেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকটিতে সদ্য যোগ দেয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল আলম বলেন, খেলাপি ঋণগুলো খুঁজে বের করে আদায়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুযোগ দেয়া হয়েছে, ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকের আমানত বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা ও ডিপোজিট বাড়ানোর জন্যও লক্ষ্যমাত্রা দেয়ার কথা বলেন এমডি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন শেষে বেসিক ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণীত ব্যাংকগুলোর জুন প্রান্তিকের প্রতিবেদনে টাকার অঙ্কে খেলাপি ঋণের শীর্ষ দশে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে জনতা ব্যাংক। এ অবস্থায় বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। আর বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে খেলাপির হারের দিক দিয়ে শীর্ষ দশ তালিকায় ব্যাংকটির অবস্থান চতুর্থ। ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ৬০ দশমিক ৫০ শতাংশই খেলাপি। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে মূলধন ঘাটতিও। প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। জালিয়াতির মাধ্যমে নেয়া প্রায় সব ঋণই খেলাপি হয়ে গেছে। এসব ঋণও ঠিকমত আদায় হচ্ছে না। ফলে লোকসানের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছেই। সরকার থেকে মূলধনের জোগান দিয়েও ব্যাংকটি স্বাভাবিক গতিতে চলছে না।

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর সময়ে অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। যার প্রায় পুরোটাই খেলাপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসিক ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছেই আটকে আছে ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৮ সালে আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪৭৮ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ২১ কোটি টাকা। ব্যাংকের রিটার্ন অন ইক্যুইটি (আরওই) ৩৪ দশমিক ০৮ শতাংশ কমেছে। রিটার্ন অন অ্যাসেট (আরওএ) কমেছে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। ব্যাংকটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩৫৪ কোটি টাকা।

বর্তমানে বেসিক ব্যাংকের প্রায় ৩৬টি শাখা লোকসানে আছে। এ বিষয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল আলম বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে লোকসানি শাখা ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনার জন্য কাজ চলছে। এই সময়ের মধ্যে কয়েকটি শাখাকে লোকসানের বৃত্ত থেকে বাইরে আনার চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির গ্রাহক সৈয়দ মাহবুবুল গনি ও সৈয়দ হাসিবুল গনি গালিবের মালিকানাধীন চার প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে শীর্ষ খেলাপির তালিকায়। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে- এমারেল্ড অয়েলের ১২১ কোটি, এমারেল্ড অটো ব্রিকসের ৮৫ কোটি, এমারেল্ড স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ ৮৩ কোটি ও সৈয়দ ট্রেডার্স ৬৯ কোটি টাকার ঋণখেলাপি। আরেক গ্রাহক ওয়াহিদুর রহমানের তিন প্রতিষ্ঠান রয়েছে তালিকায়। এর মধ্যে মা টেক্সের খেলাপি ১১১ কোটি, নিউ অটো ডিফাইন ১০২ কোটি ও ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ ৯৪ কোটি টাকার ঋণখেলাপি।

নানা অনিয়মের অভিযোগে সাবেক ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালক পদ হারানো বাবুল চিশতীর ভাই মাজেদুল হক চিশতীর মালিকানার দ্য ওয়েল টেক্সের খেলাপি ঋণের পরিমান ১২৯ কোটি টাকা। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মুরশেদ মুরাদ ইব্রাহীমের মালিকানাধীন ক্রিস্টাল স্টিলস অ্যান্ড শিপ ব্রেকিংয়ের খেলাপি ঋণ ১০৫ কোটি টাকা। এ ছাড়াও বেসিক ব্যাংকে অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ডেল্টা সিস্টেমস, ম্যাপ পেপার বোর্ড মিলস, প্রোফিউশনস টেক্সটাইল, কনফিডেন্স সু, এ আর এস এন্টারপ্রাইজ, আরকে ফুড, টেকনো ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঋণখেলাপির তালিকায়। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ ঋণ ভুয়া কাগজপত্রের বিপরীতে অনুমোদন দেয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/এস