অসহায়দের ভরসার প্রদীপ ইউএনও শাহিন

ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৯ ১৪২৬,   ০৮ শা'বান ১৪৪১

Akash

অসহায়দের ভরসার প্রদীপ ইউএনও শাহিন

এমাদুল হক শামীম, শরণখোলা (বাগেরহাট) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৭ ২৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:২৯ ২৬ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গৃহ নির্মাণ বাস্তবায়নে বাগেরহাটের শরণখোলায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইউএনও। বিগত বছরগুলোতে ওই উপজেলায় ৭শ’ ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হওয়ায় দরিদ্রদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে এবং বঞ্চিতরা হতাশ হয়ে পড়েন।

তাদের মধ্যে এক প্রকার চাপা ক্ষোভ বিরাজ হতে থাকে। কিন্তু নবাগত ইউএনও মোস্তফা শাহিন এ উপজেলায় সদ্য যোগদান করে ঘর বিতরণ নিয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করায় এ অঞ্চলের অধিকারবঞ্চিত মানুষের মাঝে  নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। 

জানাগেছে, (জমি আছে ঘর নাই) তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ, অতি দরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে লাখ টাকা ব্যয়ে প্রথম ধাপে ৯১টি, একই অর্থ বছরে দ্বিতীয় দফায় ৫৮৫টি এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের, দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের অনুকূলে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৫৩১ টাকা বাজেটের ২৪টি, চলতি ২০১৯-২০ অর্থ বছরে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা ব্যয়ে ২৯টি ঘর বরাদ্দ দেয় সরকার।

অতীতে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দরিদ্রের অভিযোগ অন্তহীন। বিগত দিনে প্রকৃতদের বঞ্চিত করে অন্য ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময় ঘর দেন তৎকালীন ইউএনও এবং ঘরের টিনসহ নিম্নমানের মালামাল সরবারাহ করেন।
      
নীতিমালা উপেক্ষা করে তৎকালীন ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টরা প্রকল্প বাস্থবায়ন করলে ওই সময় তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সম্প্রতি ইউএনও হিসেবে সরদার মোস্তফা শাহীন যোগদান করায় তার নজরে আসে, ঘর নির্মাণ প্রকল্পটির অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র। তিনি সরেজমিনে বিষয়টির সত্যতা পান।

তার মতে, দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে। বঞ্চিত মানুষের অভিযোগ তার কাছে আসতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে তিনি হতবাক। অসহায় ব্যক্তিদের কষ্টের কথা শুনে তাদের আশ্বাস দেন। চলতি বছরে ২৯টি ঘর নির্মাণে স্বচ্ছতা আনতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দরিদ্রদের ঘরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন।

অতীতে প্রশাসন ও জন-প্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আশাহত মানুষরা কোনো বিনিময় ছাড়াই বসতঘর পাওয়ায় তাদের আনন্দ বেড়ে যায়। এ কারণে নবাগত ওই কর্মকর্তা শরণখোলার বঞ্চিত, অবহেলিত, নির্যাতিত মানুষের কাছে ভরসার প্রদীপ হয়ে ওঠেন। তিনি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঘুরে বেড়ান প্রত্যন্ত এলাকায়। খোঁজ খবর নেন অসহায় মানুষের। 

সুবিধাবঞ্চিতদের অভিযোগ শোনেন ধৈর্যের সঙ্গে ব্যবস্থা নেন তড়িৎ গতিতে। মানুষের অধিকার ও আইনি সেবা দিতে সবর্দা চৌকস ভূমিকা পালন করছেন তিনি। যা শরণখোলার ইতিহাসে এক অনন্য নজির। তার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রশংসা করেছেন।

উপজেলার সোনাতলা এলাকার বাসিন্দা সখিনা বেগম ও শরণখোলার হাসেন বানু বলেন, এ ঘর গরিবের জন্য নয়, ধনীদের জন্য টাকার বিনিময়ে। এর আগে পাইছেও অনেকে। এখন শুনছি উপজেলায় একজন নতুন অফিসার আইছে। সে মানুষের বাড়িতে গিয়ে নিজে দেখে যার ঘর নাই, তাদের অনেককে ঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এবার একটা ঘর হয়তো পাবো।

উত্তর সাউথখালী এলাকার রাহেলা বেগম ও দক্ষিণ খোন্তাকাটা এলাকার জলিল বেপারী বলেন, আমরা ঘর পাবো তা কোনোদিন আশা করিনি। বর্তমান (ইউএনও) স্যার যেভাবে বুঝে শুনে ঘর দিচ্ছেন, তাতে  উপযুক্তরাই এখন ঘর পাচ্ছেন। তাছাড়া নির্মাণ সামগ্রীর মানও আগের তুলনায় অনেক ভালো।

এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল খালেক খান বলেন, নবাগত ইউএনও শরণখোলায় যোগদানের পর প্রশাসনিক কাজে আমূল পরিবর্তন এসেছে। যা অত্র এলাকার মানুষের জন্য আর্শীবাদ।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি শরণখোলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার আকন বলেন, এই অফিসারের কাছে দুর্নীতিবাজ মানুষরা প্রশ্রয় পান না। তার হস্তক্ষেপে সব ঠিক হয়ে গেছে।

রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন নবাগত কর্মকর্তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রসংশা করে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন কাজে এখন স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে। পূর্বের কর্মকর্তারা বর্তমান ইউএনও’র মতো দ্বায়িত্বশীল হলে দুর্যোগে বার বার ক্ষতিগ্রস্ত শরণখোলার দরিদ্র মানুষের ভাগ্যের অনেক পরিবর্তন হতো।

ইউএনও সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, আমি সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, পাশাপাশি মানুষ তো  মানুষের জন্য এ বিষয় চিন্তা করেই প্রত্যেক কর্মকর্তা কর্মচারীদের দ্বায়িত্ব পালন করা উচিত। আমি অনিয়ম, দুর্নীতি পছন্দ করি না। জনগণ যেন তাদের মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারে সেই চিন্তা করে সবার দ্বায়িত্ব পালন করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাসস্থান হলো একজন মানুষের মৌলিক অধিকার। তা  নিয়ে যারা অতীতে ছিনিমিনি করেছেন তাদের বিবেক বলতে কিছু আছে বলে মনে হয় না। তবে আমি যতদিন এ উপজেলায় কর্মরত আছি আমার কাছে কথা বলতে অসহায় মানুষের কোনো দালাল ধরতে হবে না। এছাড়া সেবাগ্রহণের জন্য কোনো স্টাফকে টাকা দিলে উল্টো তাদের জবাবদিহিতা করতে হবে। আমার কাছে অসহায় ব্যক্তিদের সেবা সবার আগে। তাই সরকারের উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ড ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সবার সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/আরআর