অসহায়দের জন্য ১৮ টাকায় আটা ৩০ টাকায় চাল

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

অসহায়দের জন্য ১৮ টাকায় আটা ৩০ টাকায় চাল

শেখ শফিকুল বারী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১০ ৩০ মার্চ ২০২০   আপডেট: ২১:৪৬ ৩০ মার্চ ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের ও দুস্থ-অসহায় মানুষ মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। তারা পারছেন না বাইরে বের হতে, আবার বের হলেও মিলছে না কাজ। এমন লোকেদের মাঝে খাদ্যপণ্য তুলে দিতে কাজ করছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের জন্য নেয়া হয়েছে ১৮ টাকা দরে আটা ও ৩০ টাকা করে চাল বিক্রির ব্যবস্থা। 

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২০টি কেন্দ্র খোলা হয়েছে খাদ্য অধিদফতরের চিফ কন্ট্রেলার ঢাকা, রেশনিং বিভাগ থেকে। ডিলারদের মাধ্যমে কিছু দোকানসহ ট্রাক ও পিকআপের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে আটা ও চাল। প্রতি ডিলারকে প্রাথমিকভাবে বিক্রির জন্য দেয়া হয়েছে ২ টন আটা ও ১ টন চাল। প্রতি কেজি আটার মূল্য ১৮ টাকা ও চালের মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ১২০টি কেন্দ্রে ও ট্রাকে নিম্ন আয়ের মানুষ জনপ্রতি পাঁচ কেজি করে আটা (৯০ টাকায়) ও চাল কিনতে পারবেন (১৫০ টাকায়)। 

চিফ কন্ট্রোলার ঢাকা, রেশনিং কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রাক বা দোকান থেকে এসব খাদ্য সামগ্রী কিনতে সামাজিক দূরত্ব বজায় (দুই জন ক্রেতার মধ্যে ৩ ফুট দূরত্ব থাকবে) রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে এসব পণ্য কিনতে হবে। 

নাম প্রকাশ না করে চিফ কন্ট্রোলার ঢাকা, রেশনিং কার্যালয়ের এক কর্মচারী বলেন, আমাদের চিফ কন্ট্রোলার মহোদয়ের কড়া নির্দেশনায় সকাল-সন্ধ্যা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের অনেকেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড়াতে চান না। করোনা দুর্যোগের সঙ্গে যোগ হয়েছে চৈত্রের এই কাঠ ফাটা রোদ। লাইনে না দাঁড়িয়ে অনেকেই হুড়োহুড়ি করে খাদ্যপণ্য কিনতে চান। তবে কিছুটা অসুবিধা হলেও ঢাকা জেলা প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও পুলিশসহ সবাই এ বিষয়ে সহায়তা করছেন। 

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুয়েকজন ডিলার অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছে ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি) এর আটা ও চাল। ট্রাকে ও দোকানে মূল্য তালিকা সম্বলিত ব্যানার গুটিয়ে রেখে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। সরকার নির্ধারিত মূল্য কেজিপ্রতি ১৮ টাকা হলেও নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা। ৫ কেজি আটা ৯০ টাকার পরিবর্তে নেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। একইভাবে প্রতি কেজি চাল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২ টাকা বেশি করে রাখা হচ্ছে। ক্রেতারা ৫ কেজি চাল কিনছেন ১৬০ টাকায়।  

অতিরিক্ত এই অর্থ আদায়ের যুক্তি হিসেবে বিক্রেতারা একটি পলিথিন ব্যাগ দেয়ার কথা বলছেন। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ সর্বোচ্চ ২ টাকা মূল্যের একটি পলিথিন ব্যাগের জন্য তারা হাতিয়ে নিচ্ছে ১০ টাকা। এ নিয়ে প্রায়ই ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বাদানুবাদের সৃষ্টি হচ্ছে। 

গতকাল রোববার মিরপুর ১৪ নম্বরের কাছে একটি হলুদ রঙের পিকআপে (ঢাকা মেট্রো-ন-১১-৪১৭৭) ওএমএস কর্মসূচির আটা ও চাল বিক্রি করা হচ্ছিল। এখানে ওই ট্রাকের পণ্য বিক্রেতা দুই তরুণকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য নিচ্ছেন কেন এমন প্রশ্নে তারা বলেন, আমাদের ডিলার মো. মুসা, তার সঙ্গে কথা বলুন। কিন্তু তারা ডিলারের ফোন নম্বর দিতে পারেনি। নিজেদের নাম প্রকাশেও অনিচ্ছুক তারা। আর অজুহাত দেন- পলিথিন ব্যাগ দেয়ার কথা।

ফিরোজা বেগম নামে এক বৃদ্ধা জানালেন তার ক্ষোভের কথা। জানান, ১৮ টাকা কেজি দরের আটা ২০ টাকা করে বিক্রি করায় তিনি রাগ করে তা না কিনেই চলে যান। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমনেরা (আপনারা) বেশি কইরা (করে) লিহেন (লিখেন)। গরীবের উপর ওরা জুলুম করতাছে (করছে)।’ 

এছাড়া মিরপুর মাজাররোড, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, পোস্তগোলা, গেন্ডারিয়া, মির হাজারীবাগ, শনিরআখড়া, ভাঙ্গাপ্রেস, কাজলা, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অনিয়মের এ চিত্র দেখা গেছে।

এসব বিষয়ে চিফ কন্ট্রোলার ঢাকা রেশনিং উৎপল সাহা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ডিলাররা বিনামূল্যে পলিথিন ব্যাগ দেয়ার বিষয়টি অজুহাত হিসেবে দেখাতে চেয়েছে। কিন্তু সব ডিলারকে কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদেরকে বলা হয়েছে নির্ধারিত মূল্যে পলিথিন ব্যাগে ক্রেতাকে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে। আমি নিজে ডিলারদের অনুরোধ করেছি এ দুর্যোগ সময়ে আরো মানবিক হতে, ধৈর্য্যের ও বিনয়ের সঙ্গে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করতে। 

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবাই একযোগে দুর্যোগ মোকাবিলা করছি। এরমধ্যে দু’একজন মুনাফার লোভে এটা করে থাকতে পারে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও যথেষ্ট সহায়তা দিচ্ছেন। বিশেষ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড়ানো ও নির্ধারিত মূল্যের বেশি রাখা হচ্ছে কিনা এসব বিষয়ে সহায়তা পাচ্ছি। শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ আমি নিজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজার মনিটরিং করছি। প্রতিটি দোকান বা ট্রাক-পিকআপে মূল্যতালিকা ও অনিয়ম পেলে আমাকে বা স্থানীয় পুলিশসহ প্রশাসনের যে কাউকে জানান। ব্যবস্থা নেয়া হবে অবশ্যই। দোকানগুলোতে আমি নিজে গিয়ে মৌখিকভাবে বলে ও স্টিকার লাগিয়ে দিয়েছি।

আজ কিছু এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে খাদ্য অধিদফতর ও কন্ট্রোলার ঢাকা রেশনিং কার্যালয়ের নির্দেশ মতো ওএমএস কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/এসআই