অষ্টগ্রাম হাওর ভ্রমণ: যেভাবে যাবেন, যা দেখবেন

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২০ ১৪২৭,   ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

অষ্টগ্রাম হাওর ভ্রমণ: যেভাবে যাবেন, যা দেখবেন

ভ্রমণ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৬ ১১ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৪:৪১ ১১ জুলাই ২০২০

অষ্টগ্রাম হাওর। ছবি: সংগৃহীত

অষ্টগ্রাম হাওর। ছবি: সংগৃহীত

হাওর, নদী আর মিঠাপানির জলাভূমি—প্রকৃতির অপূর্ব সমারোহ রয়েছে হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে। ষড় ঋতুতে অষ্টগ্রামে দেখা মেলে ভিন্ন ভিন্ন অপরূপ সাজ। তাই কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলাকে বলা হয় হাওরের রানী। বিস্তীর্ণ হাওরে টইটম্বুর পানিতে বর্ষাকালে রানী যেন তার যৌবন ফিরে পায়।

বর্ষায় বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত জায়গা কিশোরগঞ্জ। চারদিকে শুধু থৈ থৈ পানির রাজ্য আর সবুজ শ্যামলিমা। বর্ষার রূপ বৈচিত্র্য আর সুবিমল প্রকৃতি খুব কাছ থেকে দেখতে যাওয়া চাই এইর জেলায়। আর কিশোরগঞ্জের অন্যতম একটি জায়গা হলো অষ্টগ্রাম হাওর।

চারদিকে হাওরবেষ্টিত যোগাযোগবিচ্ছিন্ন উপজেলা অষ্টগ্রামে আয়তন ৩৩৫ বর্গকিলোমিটার। জানা যায়, অষ্টগ্রাম, আসিয়া, দুবাই ভাটেরা, নরসিংহ পূর্ববাদ, খাসাল, বীরগাঁও, বত্রিশগাঁও এবং বারেচর এই আটটি মৌজা নিয়ে গঠিত হওয়ায় এই জনপদের নাম অষ্টগ্রাম।

চারদিক দিয়েই হাওর বেষ্টিত হওয়ায় কিশোরগঞ্জ থেকে অষ্টগ্রাম প্রায় বিচ্ছিন্নই। জেলা সদর হতে অষ্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। বর্ষাকালে থৈ থৈ পানির বুকে এখানকার গ্রামগুলোকে ছোট ছোট দ্বীপ মনে হয়। বর্ষাকালেই এর সৌন্দর্য মূলত ফুটে উঠে।

কোনো একদিন সকালে গুলিস্তান থেকে বাসে করে রওনা দিতে পারেন কুলিয়ারচরের উদ্দেশে। অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি ও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলবেন। আড়াই ঘণ্টা পরে কুলিয়ারচর পৌঁছাতে পারবেন। সেখান থেকে নৌকা ভাড়া করতে হবে। বড় নৌকাটি মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে ছোট নদী আর হাওর পেরিয়ে যেতে থাকবে। দুই পাশে চর, লোকালয় মাঝে ছোট্ট নদী বেয়ে সবকিছু ফেলে নৌকা এগোতে থাকবে। সবাই মিলে তখন নৌকার ছাদের উঠে প্রকৃতি দেখতে পারেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর অষ্টগ্রাম পৌঁছাতে পারেন। বিশাল হাওরের মাঝে মাঝে এরকম এক একটা দ্বীপ।

কুতুব শাহ মসজিদ

বর্ষায় উত্তাল বতাস, মাঝিদের গান, জেলেদের ব্যস্ততা, ছোট ছোট নৌকায় মানুষের যাতায়াত, সব কিছু মিলিয়েই চারপাশটা হয়ে উঠে দেখার মতো। এছাড়া অষ্টগ্রাম এসে দেখতে পাবেন ৪০০ বছরের ঐতিহ্য ও পুরাকীর্তি কুতুব শাহ মসজিদ। সুলতানি ও মোঘল স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন পাওয়া যায় এই মসজিদে। পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদের নামকরণ করা হয় দরবেশ কুতুব শাহ্‌ এর নাম অনুসারে। মসজিদের পাশেই অবস্থিত দরবেশ কুতুব শাহ্‌ এর মাজার।

অষ্টগ্রাম সম্পর্কে যদি ভেবে থাকেন যে এটা গণ্ডগ্রাম, তাহলে ভুল হবে। বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক, মোবাইলে ইন্টারনেট, কমবেশি সবই পেয়ে যাবেন আপনি। অষ্টগ্রামে প্রচুর দুধ পাওয়া যায়। এখানকার পনিরও বিখ্যাত। গরুর খাঁটি দুধের চা খেতে খেতে আর আড্ডা দিতে দিতে প্রায় অনেক সময় চলে যেতে পারে।

তবে শুধু বর্ষা নয়, যখন পানি নেমে যায় তখন ভিন্ন রূপে এই হাওর জেগে উঠে। ভিন্ন স্বাদ পাওয়ার জন্যে একবার শীতেও যেতে পারেন কিশোরগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান অষ্টগ্রাম হাওরে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে