Alexa অলিতে গলিতে চিকিৎসা বাণিজ্য

ঢাকা, বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

প্রাইভেট ক্লিনিকের দাপট

অলিতে গলিতে চিকিৎসা বাণিজ্য

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৬ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২০:০৭ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লালমনিরহাট শহরের অলিতে গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। চিকিৎসার নামে এসব ক্লিনিকে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য। এতে দিনের পর দিন প্রতারিত হচ্ছেন রোগীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, মানহীন চিকিৎসা, ভুল রিপোর্ট, দালাল দৌরাত্মের কারণে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নীতিমালার তোয়াক্কা না করে শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা হাজারো ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। এসব ক্লিনিকে নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত জনবল। বিভিন্ন প্রলোভন ও দালালের মাধ্যমে এসব ক্লিনিকে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দিয়ে রোগ নির্ণয়ের মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে অহরহ লোক ঠকানো তাদের নিত্যদিনের কাজ। একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই রোগের পরীক্ষায় দুই রকম রিপোর্ট পাওয়ার নজির সচরাচর। 

অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, বেসরকারি এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অধিকাংশই অনুমোদনহীন। হাতে গোনা কয়েকটির অনুমোদন থাকলেও সেবার মান সন্তোষজনক নয়। এসব ক্লিনিকে রেডিওলজিস্ট, সনোলজিস্ট, প্যাথলজিস্টের পরিবর্তে কর্মচারী দিয়ে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। এমনকি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে অস্ত্রোপচার করেন ক্লিনিকের মালিক নিজেই।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব ক্লিনিকে অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি।

আদিতমারীর বেস্ট পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপ্রাপ্তবয়স্ক কর্মচারীদের মাধ্যমে এক্স-রে ও ইউরিন টেস্ট করানোর অভিযোগ তুলে ডিসি ও সিভিল সার্জনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী কামরুন নাহার। অভিযোগ আমলে নিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মেশকাতুল আবেদ এবং সিভিল সার্জন অফিসের ডা. দিপংকর রায়কে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন সিভিল সার্জন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হলেও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। বেপরোয়া এসব ক্লিনিকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বজনপ্রীতির প্রমাণ দেয়।

ডেইলি বাংলাদেশের অনুসন্ধানে কয়েকটি নামসর্বস্ব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক সেবনের প্রমাণও পাওয়া গেছে।

সালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কাশেম আলী বলেন, রাজনৈতিক চাপ ও কিছু নিয়মের কারণে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অনিয়ম রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ তৎপর রয়েছে।

লালমনিরহাটের ডিসি মো. আবু জাফর বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অব্যবস্থাপনা ঠেকাতে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। অনুমোদনহীন ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর