অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি ঢাকা চেম্বারের
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=193435 LIMIT 1

ঢাকা, রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১২ ১১ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৯:৪০ ১১ জুলাই ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সরকারের যথাযথ নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার সঠিক ব্যবহার একান্ত অপরিহার্য বলে জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

শনিবার ডিসিসিআই আয়োজিত ‘বেসরকারিখাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এ ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ। তিনি অর্থনীতির ২০টি খাতের বর্তমান অবস্থা ও খাতগুলোর উন্নয়নে সুপারিশ উপস্থাপন করেন। 

শামস মাহমুদ বলেন, চলমান কোভিড মহামারি পরিস্থিতিতে জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখতে অনেক কঠোর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রফতানিমুখী শিল্পের জন্য উৎসে কর কমিয়ে ০.২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।

তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতির ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ ১২.৭২ শতাংশ কমেছে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে ২.৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডিসিসিআই সভাপতি চীন হতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সুনিদিষ্ট রোডম্যাপ ও কৌশল এখনই নেয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন। 

তিনি আরো বলেন, গত অর্থবছরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৬ শতাংশ কম অর্জিত হয়েছে। ডিসিসিআই’র সভাপতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি ফিরে পাওয়া, অশুল্ক বাধাসমূহ দূরীকরণ ও সম্ভাবনাময় অংশীদারদের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর জোরারোপ করেন। 

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, তৈরি পোষাক খাতে উৎসে কর ০.৫ শতাংশ  হতে ০.২৫ শতাংশ নামিয়ে আনলে এ খাতে রফতানি আরো বৃদ্ধি পাবে। চামড়া খাতের উন্নয়নে তিনি দ্রুত সিইটিপি স্থাপন ও ট্যানারি মালিকদের স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানের প্রস্তাব করেন। এছাড়াও কোভিড-১৯ এর কারণে এমএসএমই খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং ব্যাংকগুলো হতে তারা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ সুবিধা পাচেছ না, এ অবস্থা উত্তরণে স্বলসুদে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম ওরিফাইন্যান্সিং স্কিম আরো বেশি হারে বাস্তবায়নে আহবান জানান তিনি। 

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতে স্বাস্থ্যখাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতীয় বাজেটে জিডিপি’র ৪ থেকে ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ রাখা উচিত।           

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাজেটে সরকার কর্পোরেট করসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে সরকারি ও বেসরকারিখাত একযোগে কাজ করতে হবে। 

তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তির অসৎ কাজের জন্য দেশ-বিদেশে আমাদের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। বিষয়গুলো যেন পুনরায় না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে। সরকারি সব খাতে কমপ্লায়েন্স হতে হবে এবং গুড গভর্ন্যান্স নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলে অভিমত ব্যক্ত করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।

কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ন্ত্রণে ভিয়েতনামের উদাহরণ উপস্থাপন করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে আমরা তা অনুসরণ করতে পারি। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট আইনসমূহের আরো সংস্কার একান্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে আরো ডিজিটাইলাইজেশন এখন সময়ের দাবি। প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের ব্যাংক হিসাব না থাকায় সরকার কোভিড-১৯ মোকাবিলায় নগদ আর্থিক সহায়তা সবার মাঝে পৌঁছাতে পারেনি। 

মন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ সম্পর্কে প্রথমদিকে আমাদের ধারণা না থাকায় স্বাস্থ্যখাতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে আমরা তা কাটিয়ে উঠেছি। 

আশিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হলে বাংলাদেশকে আশিয়ানের পর্যবেক্ষক মর্যাদা অর্জন করতে হবে। এছাড়াও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আরো বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর জোরারোপ করার কথা জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী।  

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় পলিসি এক্সচেঞ্জ এর চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ, আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিসিসিআই’র প্রাক্তন সভাপতি হোসেন খালেদ, বিল্ড-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি আবুল কাসেম খান এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ ও ঢাকা চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম অংশগ্রহণ করেন।

মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই’র প্রাক্তন সভাপতি রাশেদ মাকসুদ খান, এম এইচ রহমান, আফতাব-উল ইসলাম, এফসিএ, বেনজীর আহমেদ, সাইফুল ইসলাম এবং মো.সবুর খান মতামত ব্যক্ত করেন। এছাড়া ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এন কে এ মবিন, এফসিএ, এফসিএস এবং সহ-সভাপতি মোহাম্মদ বাশিরউদ্দিন ওয়েবিনারে অংশগ্রহণ করেন।

 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএস/জেডআর