Alexa অরক্ষিত রংপুর রেলস্টেশন

ঢাকা, শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৯ ১৪২৬,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

অরক্ষিত রংপুর রেলস্টেশন

সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১০:৩৮ ১৫ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বখাটেদের উৎপাত, পকেটমার, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী আর টিকেট কালোবাজারীদের নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে রংপুর বিভাগীয় রেলস্টেশনটি। সুযোগ পেলেই যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, চুরি ও ছিনতাই হয় এখানে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় বহিরাগতদের উৎপাতে অরক্ষিত রংপুর রেলস্টেশন।

রোববার বিকেলে স্টেশনের এক নাম্বার প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা লাইলি বেগম জানান, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক তিনি। প্রতিদিনে তাকে স্কুলে যেতে হয়। রেলের ভ্রমণ নিরাপদ এবং যাতায়াত খরচ কম। তাই ট্রেনে চলাচল স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এজন্য রংপুর রেল স্টেশনে সপ্তাহে ছয়দিন তাকে আসতে হয়। কিন্ত রেলস্টেশনটি একেবারেই অনিরাপদ। সেই সঙ্গে আছে টিকেট কালোবাজারী।

তিনি জানান, যাত্রীদের সঙ্গে বিশেষ করে মহিলা ও মেয়েদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বখাটেরা। রেল পুলিশকে দেখা যায় না। অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয় না।

সালাম তালুকদার নামে অপর এক যাত্রী জানান, ব্যবসার কাজে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। প্রথম পছন্দ ট্রেন ভ্রমণ। কিন্তু রেলস্টেশনগুলোতে ট্রেন আসতে দেরি করে। বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি কেউ যদি খেতে চায় সেই ধরনের উন্নত হোটেলের কোনো ব্যবস্থাও নেই এখানে।  

তানিয়া বিনতে ঝলক জানান, মানুষ নিরাপদ যাতায়াত ও কম খরচের জন্য ট্রেনে চলাচল করতে বেশি পছন্দ করেন। রংপুর বিভাগের অধিকাংশ রেল স্টেশনে অব্যবস্থাপনার পরেও প্রতিদিন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। রংপুরে নতুন ট্রেনসহ রেলস্টেশনগুলো যাত্রীবান্ধব করে গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি।

রংপুর রেলওয় স্টেশন সূত্রে জানা গেছে. বর্তমানে ১টি আন্তঃনগর ট্রেনসহ প্রতিদিন ১৫টি ট্রেন চলাচল করে এই স্টেশন দিয়ে। এর মধ্যে আপে আটটি এবং ডাউনে চলে সাতটি ট্রেন। প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজারের মতো যাত্রী রংপুর স্টেশন ব্যবহার করে তাদের গন্তব্যে যায়। বিভাগীয় নগরীর রেলস্টেশন হিসেবে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই স্টেশনের অনেক যাত্রীর অভিযোগ বহিরাগতদের উৎপাতের বিষয়টি। রেল স্টেশনটিতে সীমানা প্রাচীর না থাকায় নানা ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটছে।

রংপুর রেল স্টেশনে নিরাপত্তা দলের প্রধান এএসআই মশিউর রহমান বলেন, তাদের দলে মোট সদস্য পাঁজজন। কিন্তু এই স্বল্প লোকবল দিয়ে রেলের নিরাপত্তা দেয়া আসলেই কষ্ঠকর। তাদের কমপক্ষে আরো পাঁচজন সদস্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, বহিরাগতরা চারিদিক থেকে স্টেশনে প্রবেশ করে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়ে নিরাপদে সটকে পড়ে।

এদিকে জেলার রেলস্টেশন বদরগঞ্জ, শ্যামপুর, পীরগাছা এবং কাউনিয়া রেলস্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু কাউনিয়া বাদে কোনো স্টেশনে যাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষায় রেল কর্তৃপক্ষের কোনো নিরপত্তারক্ষী নেই।

তবে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন মঙ্গলবার রংপুর রেল স্টেশন পরিদর্শনে এসে রংপুর রেলস্টেশনকে একটি আধুনিক স্টেশন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

রংপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিক সরকার জানান, সরকার রেলের সংস্কারে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কিন্তু এ অঞ্চলের রেলের সংস্কারের কাজের গতি বেশ মন্থর। দীর্ঘ দিন থেকে এখানের রেলের অবস্থা বেশ করুন। তাই রেলের উন্নয়নে আরো বেশি মনোযোগী হওয়া উচিৎ।

রংপুর রেল স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) মোজাম্মেল হক জানান, রংপুর স্টেশনে সীমানা প্রাচীর না থাকায় বহিরাগতদের দ্বারা আকস্মিকভাবে যাত্রীরা নানা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে যে পুলিশ ফাঁড়ি আছে এর পুলিশের সংখ্যা ১৮ জন। রেলের নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষী আছেন পাঁচজন। এই অপ্রতুল লোকবল দিয়ে অপরাধীদের দমন করা কষ্টকর। তারপরও আমরা যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস/এসআর