ঢাকা, শুক্রবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৯ ১৪২৫,   ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০

অরক্ষিত বামন গ্রামের বধ্যভূমি

বগুড়া প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৩:১৫ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:১৯ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও অবহেলায় পড়ে আছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বামন গ্রামের বধ্যভূমি। সংস্কার না করায় এ বধ্যভূমিতে এলাকার লোকজন খড়ের পালা দিয়ে ঘিরে রেখেছে। সেখানে বাঁধা রয়েছে গরু আর ছাগল। 

চারদিকে গড়ে উঠেছে জঙ্গল। তার পাশেই মেঠো পথ। এ কারণে বধ্যভূমির স্মৃতি প্রায় মুছে যাওয়ার উপক্রম। অনেকেই ভুলে গেছেন এ বধ্যভূমির কথা। সরকারি ভাবে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে মুছে যাবে স্মৃতি। বধ্যভূমির গাছের সঙ্গে একটি সাইনবোর্ড দেয়া আছে। ওই সাইনবোর্ডের তথ্য থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল রোববার রাতে পাক বাহিনী বামন গ্রামে হানা দেয়।বাড়ি থেকে উঠিয়ে দেয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের।

তারা হলেন- নন্দীগ্রামের বামনগ্রামের হরচন্দ্র কবিরাজের ছেলে প্রাণবন্ধুচন্দ্র কবিরাজ, চন্দ্র্য শাহার ছেলে মনিদ্র চন্দ্র শাহা, নিলকান্ত প্রামানিকের ছেলে প্রান কান্ত প্রামনিক, বনমালী চন্দ্র শাহার ছেলে পূর্ন চন্দ্র শাহা। ভাগবজর গ্রামের ভরত রবিদাসের ছেলে সুখী রবিদাস, প্রহলাথ প্রামানিকের ছেলে বলরাম চন্দ্র প্রামানিক, শ্যামনাথ সরকারের ছেলে রমনাথ সরকার, ওলাহালী কাহালু, রঘুনাথ প্রামানিকের ছেলে রবিন্দ্র চন্দ্রসহ ৯জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শী কানাই চন্দ্র বলেন, পাক বাহিনী বিভিন্ন এলাকা থেকে ডেকে সুখ-দুঃখ পুকুরের পশ্চিম পাড়ে গর্তের ধারে একত্র করে এক এক করে গুলি করতে থাকে। আমি ও বড় ভাই বলরাম এক সঙ্গে ছিলাম প্রথমে আমার ভাইকে গুলি করে গর্তে ফেলে দেয়। ভাইয়ের পেটে গুলি লেগে ভুড়ি বেড় হয়ে যায়। এরপর আমাকে রাইফেলের বাঁট দিয়ে বেদম ভাবে মারে। দাড়াতে বললে দাঁড়াই।তিনটি গুলি করে গর্তে ফেলে দেয়। ভাগ্যক্রমে গুলি লাগেনি। 

গায়ে চাদর জড়ানো ছিল।রক্তভেজা চাদর শরীরে জড়িয়ে লাশের সঙ্গে পড়ে থাকি। এরপর ভাই কান্নার শব্দে পানি পানি করছে শুনতে পাই। আধামরা হামাগুড়ি দিয়ে সুখ দুঃখ পুকুর থেকে পানি এনে ভাইয়ের মুখে দেয়ার কিছুক্ষণ পর মারা যায়।

আরেকজন প্রতক্ষ্যদর্শী মিজাপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন বলেন,  ঘটনার দিন ভোরে কোলাহল শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি অনেক লোকজনের রক্তমাখা লাশ গর্তে পড়ে আছে।অনেকের ভুড়ি বের হয়ে গেছে। আশে পাশের গ্রামের লোকজন আসে। গর্তে মাটি ঢেলে পুতে রাখে। একই রাতে হাটকড়ি হিন্দু পাড়ায় হানা দিয়ে সুরেশ চন্দ্র, বুজেশ্বর চন্দ্র, সুরেস চন্দ্র প্রামানিক ও অধির চন্দ্রকে হাটকড়ই হাইস্কুল মাঠে গুলি করে হত্যা করে।পরে তাদের শ্বশ্মানে সমাধি করা হয়। সেই জায়গাটি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।সরকারিভাবে কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় সংস্কারের অভাবে অবহেলায় পড়ে আছে বধ্যভূমিটি। 

ইউএনও মোছা: শারমিন আখতার বলেন,এসব বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম