অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৬ ১৪২৬,   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২১:৪৬ ১৮ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১২:০৭ ১৯ জুলাই ২০১৮

মৎস্য উৎপাদনে সফল মৎস্যজীবী

মৎস্য উৎপাদনে সফল মৎস্যজীবী

২০১৮ সালে অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে বিশ্বে পঞ্চম অবস্থানে ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদন। 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন-এফএও) সবশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।  জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে বুধবার তথ্যটি জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন-এফএও) প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে শীর্ষে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত। তালিকার পরের অবস্থান বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউর তথ্যমতে, দেশের জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ৩.৫৭ শতাংশ। কৃষিজ জিডিপিতে এ খাতের অবদান ২৫.৩০ শতাংশ। আর দেশের মোট জনগোষ্ঠির ১১ শতাংশের অধিক লোক মৎস্য আহরণে জড়িত। ২০১৭-১৮ সালে দেশ প্রায় ৬৯ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানি করা হয়। যা থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আসে।

বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে জনপ্রতি গড়ে ৬২.৫৮ গ্রাম মৎস্যগ্রহণ করছে। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, জনপ্রতি দরকার মাত্র ৬০ গ্রাম মৎস্যজাত খাদ্য। জাটকা নিধন রোধের ফলে ২০১৭-১৮ সালে প্রায় ৫ লাখ টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে। ২০০৮-০৯ সালে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ টন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ২৯৮ প্রজাতির মাছ, ২৩ প্রজাতির চিংড়ি মাছ, ১৬ প্রজাতির ক্রাস্টেপিয়ান ও ১২ প্রজাতির মলাস্কা চিহ্নিত করা হয়েছে।  ২০১৬-১৭ সালে প্রায় ৪২ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশ মাছে সয়ম্ভরতা অর্জন করেছে। যা ধরে রাখা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। সারাবিশ্বে একমাত্র বাংলাদেশি মাছ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে ইলিশ মাছের জিআই (GI)সনদ প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী মৎস্য খাতের উন্নয়নে যথাযথ অবদান রাখায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলেসহ গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশংসা করেন।

জাটকা নিধন রোধে সহায়তা করায় ২০১৭-১৮ সালে প্রায় আড়াই লাখ জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি হারে ৪ মাসে প্রায় ৪০ হাজার টন খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়। ২২ দিন পর্যন্ত মা-ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখায় বিগত ২ বছরে প্রায় ৪ লাখ জেলে পরিবারকে প্রায় ১৫ হাজার টন ভিজিএফ দেয়া হয়েছে বলেও জানান মৎস্য মন্ত্রী। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে