অভিশপ্ত যত অভিশাপ

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৩ ১৪২৬,   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

অভিশপ্ত যত অভিশাপ

তুনাজ্জিনা জাহান   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩২ ২৪ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

এমন অনেক বস্তুর গল্প আছে যা শাপগ্রস্ত বা প্যারানরমাল বলে মনে করা হয়। এই অভিশপ্ত বস্তুগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ বস্তুই তাদের মালিকদের জন্য আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত দুর্গতি ও দুর্ভাগ্য ডেকে নিয়ে এসেছে। শুধু তাই নয়, এর চেয়েও ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে এই জিনিসগুলোর মালিকদের দাবি এগুলোর সাথে জড়িয়ে আছে অশুভ কোনো শক্তি, তারা নানা ভয়ংকর জিনিস দেখে থাকে হতে পারে তা কোন প্রেতাত্মা বা কালো জাদুর ফল। তাদের এই দাবি বাস্তব? কেউ বলে হ্যাঁ কেউ বলে না। যখন আপনি এই ভয়ঙ্কর বস্তুগুলোর সাথে সম্পর্কিত প্রকৃতপক্ষে অস্বাভাবিক ঘটনাগুলো জানবেন, তখন আপনিও হয়তো প্যারানরমাল এসব ঘটনা বিশ্বাস করতে শুরু করবেন।

এলমোএলমো
১৯৯৬ সাল থেকে এই এলমো পুতুল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হলিডে প্রেজেন্ট নামে, যা বিশ্বজুড়ে অনেক শিশুর আনন্দের খোড়াক হয়ে উঠেছে। তবে একটি বিশেষ এলমো একইভাবে সব শিশুর আনন্দের কারণ হতে পারেনি। ২০০৪ সালে, দুই বছর বয়সী জেমস বোম্যান ছিলেন ‘এলোমো আপনার নাম জানেন’ পুতুলের গর্বিত মালিক, যার বৈশিষ্ট্য ছিল মালিকের নাম প্রোগ্রামে সেট করে দিলে পুতুলটি মালিকের নাম বলতে পারত। তবে এই বিশেষ পুতুলটি কেবলমাত্র মালিকের নামই বলত না, নামের আগে ‘কিল’ অর্থাৎ হত্যা শব্দটিও যোগ করতো। পুতুলটির সুইচ অন করলেই দেখা যেত এটি সারাক্ষণ বলছে ‘কিল জেমস’। জেমসের মা খোঁজ নিয়ে দেখেন সব মালিকের ক্ষেত্রেই পুতুলটি সামনে কিল শব্দটি যোগ করত এবং সেই সব মালিকেরা কোনো না কোনো ভাবে এই পুতুল দিয়ে কোনো না কোনো দূর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে। এরপর জেমসের মা পুতুলটি ধ্বংস করে ফেলেন। 

দ্য হোপ ডায়মন্ডদ্য হোপ ডায়মন্ড
১ দশমিক ১ বিলিয়ন বছরের পুরনো এই হীরাটির আর্থিক মূল্য ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার এবং এটি রাখা আছে স্মিথসোনিয়ান ঐতিহাসিক জাদুঘরে। এই অভিশপ্ত মূল্যবান পাথরটি যেই পরিধান করেন তার জন্যই চলে আসে কোনো না কোনো দূর্ঘটনা ও সীমাহীন দূর্গতি। একজন পরিধানকারীকে কুকুর কামড়ে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছিল এবং আরেকজন ফরাসি বিল্পবে মারা গিয়েছিল।

দ্য বাসবী স্টুপ চেয়ার
 দ্য বাসবী স্টুপ চেয়ার
একজন খুনীর অভিশাপ দ্বারা এই চেয়ারটি অভিশপ্ত ছিল। ১৭০২ সালে থমাস বাসবি তার শ্বশুর ড্যানিয়েল অটিকে খুন করে এবং শাস্তি স্বরূপ তাকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। ফাঁসি দেয়ার আগ মুহুর্তেও বাসবী এই চেয়ারটিতে বসে ছিলেন। কেননা এই চেয়ারটি তার অত্যন্ত পছন্দের ছিল এবং তিনি ছাড়া আর কারো এখানে বসার অনুমতি ছিল না। তার মৃত্যুর পরই এই চেয়ার নিয়ে বাঁধল যত বিপত্তি। এই চেয়ারে যেই বসত তার ভাগ্যেই জুটত ভয়াবহ নৃশংস মৃত্যু। এমনভাবে বেশ কয়েকজন এর মৃত্যু হওয়ার পর চেয়ারটি জাদুঘরে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
  ক্রাইং বয় পেইন্টিং ক্রাইং বয় পেইন্টিং
১৯৫০ সালে ব্রুনো আমাদাই তার একটি পেইন্টিং পুনরুৎপাদন করেন। পেন্টিংটির নাম দেন ‘দ্য ক্রাইং বয়’। বিশ্বাস করা হয় যে, এই ছবিটি যেখানে থাকে সেখানেই আগুন লেগে যায়। এ  বিষয়ে ১৯৮৫ সালে আর্টিকেল প্রকাশ করে দ্য সান ট্যাবলয়েডটি। যেখানে বলা হয় যে এই ছবিটি পছন্দ করে একটি দম্পতি তাদের বসার ঘরে টাঙানোর জন্য কিনে নেন। তার কিছুদিন পরেই তাদের বাসায় ভয়াবহ আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস কর্মী জানায় এই আগুনে বাড়িটির সবকিছু পুড়ে যায়, কাগজের কোনো কিছুই অক্ষত পাওয়া যায়নি শুধুমাত্র একটি জিনিস ছাড়া। ‘দ্যা ক্রাইং বয়’ পেইন্টিংটি তারা সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছিল। পরবর্তীতেও আরো বেশ কয়েকবার এটি যে স্থানে রাখা হয় সেখানে আগুন লেগে যায়।
তুতেনখামের সমাধিতুতেনখামের সমাধি
এই সমাধিকে সহস্র শতাব্দীর সব থেকে বড় অভিশাপ বলা হয়। এ সমাধিটি আবিষ্কার করেন হাওয়ার্ড কার্টার। এ সমাধির ভেতর যেই প্রবেশ করে সেই তার নিজের জন্য দুর্ভাগ্য নিয়ে আসেন। এমনকি সেই সমাধির উপর এ অভিশাপের কথা বিশেষভাবে লেখাও আছে। সমাধি আবিষ্কারের পরদিনই অসুস্থ হয়ে পড়েন কার্টার। এ সমাধি উত্তোলনের জন্য অর্থ প্রদান করেছিলেন লর্ড কারনাভান। তিনিও কিছুদিনের মাঝেই মৃত্যবরণ করেন। ১৯৩৫ সালের মধ্যে এ সমাধিতে প্রবেশ করেছেন এমন ২০ জন মৃত্যুবরণ করেন। 
বরফ মানববরফ মানব
আরেকটি মমিকে অভিশপ্ত বলে বিশ্বাস করা হয়। অটজি আকা অথবা আইস ম্যান নামে এই মমিটি পরিচিত। ১৯৯১ সালে ইতালির অটজাল আল্প নামক জায়গা থেকে এটির খোঁজ পাওয়া যায়। প্রায় ৩ দশমিক ৩০০ খৃষ্টপূর্বে এই ব্যক্তির বাস ছিল বলে ধারণা করা হয়। অটজি কে নিম্নে সাতটি মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়। এর মাঝে যারা উল্লেখযোগ্য ছিলেন তারা হলেন - এই মমির প্যাথলজি ডাক্তার রেইনার হেন, যিনি এক ভয়াবহ গাড়ি দূর্ঘটনার শিকার হন। পর্বতারোহী কার্ট ফ্রিটজ তার সমাধি পরীক্ষা নিরীক্ষার সময় হিমবাহে মারা যান এবং মমি এর আবিষ্কারক হাইকার হেলমুট সাইমন একটি আঁকাবাঁকা পথ থেকে পতিত হওয়ার পর মারা যান। 
জেমস ডিনের ‘লিটিল বাস্টার্ড’জেমস ডিনের ‘লিটিল বাস্টার্ড’
‘লিটিল বাস্টার্ড’ হচ্ছে জেমস ডিনের রুপালী পোর্শে স্পাইডার ৫৫০, যাতে করে তিনি এক্সিডেন্ট করে ১৯৫৫ সালে মারা গিয়েছিলেন। গাড়িটি একজন কিনে নিলে এতে আবার এক্সিডেন্ট করে ড্রাইভার পঙ্গু হয়ে যায়। পরবর্তীতে গাড়িটির যন্ত্রপাতি আলাদা আলাদা বিক্রি করতে নেয়া হয়। একজন ডাক্তার গাড়িটির ইঞ্জিন কিনে নেন এবং একইভাবে এক্সিডেন্ট করে মারা যান। আরেকজন এর ট্রান্সমিশন কিনে নিলে তার গাড়িও ভয়াবহ ভাবে ক্রাশ করে কিন্তু তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এর চাকাগুলো কিনে নেন আরেকজন ক্রেতা। সেগুলো বার্স্ট হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। সর্বশেষ এই ইঞ্জিনগুলো বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলো এক ট্রাক, সেটিও এক্সিডেন্ট করে এবং ড্রাইভার নিহত হন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস