ঢাকা, বুধবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৭ ১৪২৫,   ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০

স্বপ্ন নিয়ে বিজ্ঞানীদের যত থিওরি

সিফাত সোহা

 প্রকাশিত: ১৪:৪৭ ৭ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৪:৪৭ ৭ অক্টোবর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আমরা সবাই কম বেশি স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন কি? আর মানুষ কেনইবা স্বপ্ন দেখে এই সব প্রশ্নগুলো সবার মনে জাগে। এমন কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না যে কোনো দিনই স্বপ্ন দেখেনি। বিজ্ঞানীদের দাবি, একজন মানুষ যদি ৭০ বছর বাঁচে তাহলে তার মোট জীবনের প্রায় ৬ বছর সময় স্বপ্ন দেখে কাটান। আমরা ভালো, মন্দ, ভয় ও আনন্দ সব রকমের স্বপ্নই আমরা দেখি। স্বপ্ন নিয়ে বিভিন্ন ধর্মে অনেক বর্ণনা আছে। এসবকে ব্যাখ্যা করে স্বপ্ন সম্পর্কে বিজ্ঞান অনেক তথ্য দিয়েছে।   

স্বপ্ন হলো মানুষের অবচেতন মনে ঘুমের মধ্যে দেখা কিছু ঘটনা। যেগুলো দেখার সময় আমরা সেগুলোকে সত্যি বলে মনে করি। আমরা কেন স্বপ্ন দেখি এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। তবে বিভিন্ন সময় বিজ্ঞানীরা কিছু থিওরির মাধ্যমে স্বপ্নকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। স্বপ্ন নিয়ে বিজ্ঞানীরা যে শাখায় আলোচনা করে তাকে বলা হয় অনাইরলজি। 

সাইকোঅ্যানালিটিকাল থিওরি
স্বপ্ন নিয়ে অনেকগুলো থিওরি আছে। প্রথমেই আলোচনা করা যাক সাইকোঅ্যানালিটিকাল থিওরির ব্যাপারে। বিজ্ঞানি সিগ্মুন্ড ফ্রয়েড এর মতে স্বপ্ন হল আমাদের অবদমিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এর দুটি অংশ থাকে একটি হল প্রকাশিত অংশ আর ওপরটি হল অন্তর্নিহিত অংশ। প্রকাশিত অংশে থাকে সত্যিকারের ছবি, ভাবনা এসব আর অপ্রকাশিত অংশে থাকে স্বপ্নের মনস্তান্ত্রিক দিক। 

আক্টিভেসন সিন্থিসিস মডেল 
সপ্নের আর একটি থিওরি হল আক্টিভেসন সিন্থিসিস মডেল। আমাদের ঘুমের একটি পর্যায় হল আরইএম বা র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট। এই পর্যায়েই আমরা স্বপ্ন দেখি। ঘুমের এই পর্যায়ে মস্তিষ্কের সেই অংশগুলো সচল হয়ে উঠে যারা বিভিন্ন ধরনের আবেগ অনুভূতি আর স্মৃতির সাথে জড়িত। আর মস্তিষ্কের এই অভন্তরিন সক্রিয়তার ফলেই সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ধরনের সিগন্যাল এবং আমরা স্বপ্ন দেখি। অর্থাৎ স্বপ্ন হল মস্তিষ্কের সিগন্যালের ফলাফল। 

ইনফরমেশন প্রোসেসিং থিওরি
আর একটি থেওরি হল ইনফরমেশন প্রোসেসিং থিওরি। আমাদের মস্তিষ্ক সারাদিন যে সব তথ্য গ্রহন করে রাতের বেলা ঘুমের সময় সে তথ্যগুলোর প্রোসেসিং করা হয় মস্তিষ্কের মধ্যে। আর স্বপ্ন হলো সে তথ্য প্রসেসিং এর একটি অংশ। একটি মানুষ প্রতি রাতে তিন থেকে সাতটি স্বপ্ন দেখে। প্রতিটি স্বপ্ন কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে ত্রিশ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু ঘুম থেকে উঠার পাঁচ মিনিটের ভেতরেই মানুষ পঞ্চাশ শতাংশ দেখা সপ্নই ভুলে যায়। আর দশ মিনিটের ভেতরে ভুলে যায় নব্বই শতাংশ। স্বপ্নে আমরা সে সব মানুষ বা জায়গা দেখি যা আমরা সচেতন বা অবচেতনভাবে আগে কখনো দেখেছি। 
তাহলে আমাদের মনে আবার এই প্রশ্ন আসে তাহলে কি অন্ধ মানুষরা স্বপ্ন দেখে না? হ্যাঁ! অন্ধ মানুষরাও স্বপ্ন দেখে, এমন কি যারা জন্ম থেকে অন্ধ তারাও স্বপ্ন দেখতে পারে। তবে তারা কোনো মানুষ বা কোনো জায়গার প্রতিচ্ছবি দেখে না। তাদের স্বপ্নে থাকে বিভিন্ন ধরনের শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ, স্বাদ এসব। এমনকি বিজ্ঞানীদের মতে কুকুর বিড়াল হাতি বানরসহ সব রকম প্রাণীই স্বপ্ন দেখে। 

সপ্নের ওপরে আমাদের সাধারণত কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। স্বপ্নের মধ্যে চাইলেও সাধারণত নড়াচড়া করা যায় না। যেমন, ধরুন আপনি স্বপ্নের মধ্যে দেখছেন যে আপনাকে কেউ তাড়া করছে আর আপনি প্রানপনে দৌড়ানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু হাত পা নড়াতে পারছেন না। অনেক সময় মানুষ এটাকে বোবা ধরা বলে থাকে। 

স্বপ্ন কোনো নিয়ম বা কোনো নীতি বা যুক্তি মানে না, আমাদের ঘুমের মধ্যে আমাদের অবচেতন মন তার ইচ্ছা মত আমাদের স্বপ্ন দেখায়। মস্তিষ্কের প্রি ফ্রন্টাল কোরটেক্স যা আমাদের যুক্তি বিবেচনা বোধ কে নিয়ন্ত্রণ করে তা ঘুমের সময় নিষ্ক্রিয় হয়ে পরে। অনেক সময় মানুষ বুঝতে পারে যে সে স্বপ্ন দেখছে আবার মাঝে মাঝে সে চাইলেও তাঁর সপ্নের ঘটনা প্রবাহকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ ধরনের স্বপ্নকে বলা হয় লুসিক ড্রিম ।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ