.ঢাকা, সোমবার   ২৫ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ১১ ১৪২৫,   ১৮ রজব ১৪৪০

অবিবাহিতকে বিধবা ভাতা!

 প্রকাশিত: ১৫:১৪ ২২ জুলাই ২০১৭  

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পৌরসভায় অবিবাহিত যুবতীকে বিধবা ভাতা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে । এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পৌরসভার মেয়র এইচ এম আহেদুল ইসলামকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করে কোটালীপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম। স্থানীয় ও চিঠি সূত্রে জানাগেছে, কোটালীপাড়া পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর আকলিমা বেগমের সুপারিশে বিগত ২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে ৩নং ওয়ার্ডের শিমুলবাড়ি গ্রামের মৃত করিম খলিফার মেয়ে তাছলিমা খানম বিধবার ভাতা পেয়ে আসছেন। গত ২৭ এপ্রিল ওই কাউন্সিলর তাছলিমা খানমকে কোটালীপাড়া পৌরসভার প্রতিবন্ধীর তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করেন এবং ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেন। চিঠিতে বলা হয়, তাছলিমা খানম অবিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বিধবা ভাতা পাওয়ার সুপারিশ প্রাপ্তহলো? আরো অভিযোগ রয়েছে, কাউন্সিলর আকলিমা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৯টি ভুয়া এনআইডি প্রদর্শন করে বয়স্ক ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেন। এ বাপারে গত ১৭ জুলাই কোটালীপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম কাউন্সিলর আকলিমা বেগমের বিরুদ্ধে আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৌর মেয়র এইচ এম অহেদুল ইসলামকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেন। অবিবাহিত তাছলিমা খানম বলেন, এখনও আমার বিয়ে হয়নি। এমনকি আমি প্রতিবন্ধীও নই। কাউন্সিলর আকলিমা বেগম আমাকে বিধবা ভাতার কার্ড দিয়ে ব্যাংক থেকে আমাকে দিয়ে টাকা উত্তোলন করিয়ে সব টাকাই তিনি নিয়ে নেন। অন্যদিকে কাউন্সিলর আকলিমা বেগম বলেন, ‘তাছলিমা অসহায় ও দুঃস্থ। সে অবিবাহিত তারপরও তাকে আমি সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করে একটি বিধবা কার্ড পাইয়ে দিয়েছি। সে প্রতিমাসে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিত। আমি কখনো তার টাকা গ্রহণ করিনি। সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। কার্ড পাওয়ার পর সে সমাজসেবা অফিসে আমার মাধ্যমে এক হাজার টাকা দিয়েছিল। তাকে প্রতিবন্ধী তালিকা অর্ন্তভুক্ত করা আমার ভুল হয়েছে।’ কোটালীপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এক বছর ধরে এখানে কর্মরত। তাছলিমাকে প্রতিবন্ধীর তালিকাভুক্ত করার পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। তদন্তে নেমে দেখি টাকার বিনিময়ে বিধবা ভাতা দিয়ে কাউন্সিলার আত্মসাৎ করছে। এ ছাড়াও আকলিমা ৯ জনকে বয়স্ক ভাতা দেয়ার জন্য সুপারিশ করে ভুয়া আইডি কার্ড প্রদর্শন করেছেন। নির্বাচন অফিসে যাচাই-বাছাইয়ে পর দেখা যায় সেখানে বয়স্ক ভাতার আবেদনকারীদের বয়স বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সব ব্যাপারে ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি চিঠি দিয়ে মেয়রকে অনুরোধ করেছি।’ কোটালীপাড়া পৌরসভার মেয়র এইচএম অহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পৌরসভার সীমানা জটিলতা নিয়ে দায়েরকৃত মামলা সংক্রান্ত কাজে ঢাকা অবস্থান করছি। এ কারণে সমাজসেবার চিঠি আমি হাতে পাইনি। তবে আকলিমা বেগম ঝামেলায় পড়েছেন বলে শুনেছি। এ ব্যাপারে কাউন্সিলরদের বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি।’ ডেইলি বাংলাদেশ/আরকে