Alexa অবশেষে স্বামীর ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ পাচ্ছেন ফজিলা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

অবশেষে স্বামীর ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ পাচ্ছেন ফজিলা

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১০ ২১ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ২১:২৮ ২১ জুলাই ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অবশেষে এক যুগ পর স্বামীর ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ পেতে যাচ্ছেন ফজিলা বেগম। ২০০৭ সালে নিখোঁজ স্বামী আব্দুল হানিফ মোল্লার সন্ধানে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। অবশেষে সেই স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট পাচ্ছেন তিনি।

ফজিলা স্বামী হারিয়ে অর্থকষ্টকে সঙ্গী করে সন্তানদের নিয়ে খেয়ে না খেয়ে থেকেছেন। অবশেষে বুঝেছেন স্বামী আর বেঁচে নেই! তাই সন্তানদের মানুষ করতে স্বামীর পেনশন আর ব্যাংকের টাকা তুলতে ধরনা দেন ব্যাংকে আর স্বামীর কর্মস্থলে। কিন্তু সবার চাওয়া ফজিলার স্বামীর ‘ডেথ সার্টিফিকেট’।

এক যুগ ধরে এই ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য ঘুরে বেড়ানো ফজিলাকে নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর জেলা প্রশাসন তার পাশে দাঁড়ায়। পাঁচ মাসের আইনি প্রক্রিয়ার পর রোববার আদালত ফজিলার স্বামীর ‘ডেথ ডিক্লিয়ারেশন’ ঘোষণা করে।

যশোর শহরের রায়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে কোনো রকমে থাকেন ফজিলা। স্বামী আব্দুল হানিফ মোল্লা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ গ্রামের কাদের মোল্লার ছেলে।

সেনাবাহিনীর ল্যান্স নায়েক পদ থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি ঢাকায় ট্যাক্সিক্যাব চালাতেন। আর চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে যশোরে থাকতেন ফজিলা।

২০০৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ট্যাক্সিক্যাব নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন হানিফ। এরপর তার কোনো সন্ধান মেলেনি। দুদিন পর ট্যাক্সিক্যাবটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ঢাকার রাজমনি সিনেমা হলের পেছনে পাওয়া যায়। হানিফ মোল্লা নিখোঁজের ঘটনায় লিঙ্কস ক্যাব (বিডি)’র কর্মকর্তা ওবায়দুল হক ২০০৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কাফরুল থানায় একটি জিডি করেন।

স্বামী হানিফ মোল্লা নিখোঁজের খবরে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে ফজিলার। তিনি ঢাকায় ছুটে যান। থানা-পুলিশ বহু জায়গায় ধরনা দেন। কিন্তু স্বামীর সন্ধান মেলেনি।

একদিকে স্বামী নেই, অন্যদিকে ছোট চারটি সন্তান। কোনো উপায় না পেয়ে ছুটেছেন স্বামীর সর্বশেষ কর্মস্থলে। গেছেন খুলনার সোনালী ব্যাংক ইকবাল সড়ক শাখায়, যেখানে স্বামীর অবসর ভাতা গ্রহণের একাউন্ট। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। না পেয়েছেন স্বামীর সন্ধান, না পেরেছেন ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে। সবাই চায় হানিফ মোল্লার ডেথ সার্টিফিকেট। ফলে এক যুগ ধরে চার সন্তান বুকে আগলে খেয়ে না খেয়ে অমানবিক জীবনযাপন করেছেন ফজিলা।

মামলার বাদী ফজিলা বেগমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান (আসাদ) বলেন, কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ২৫ মার্চ আব্দুল হানিফ মোল্লার ডেথ সার্টিফিকেট চেয়ে আদালতে মামলা হয়। রোববার সদর সহকারী জজ আদালতের বিচারক তরুণ বাছাড় আব্দুল হানিফ মোল্লা মৃত বলে ডিক্রি জারি করেন। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত হানিফ মোল্লাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এখন এই ডিক্রির বুনিয়াদে বাদীকে ডেথ সার্টিফিকেট দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

Best Electronics
Best Electronics