অবশেষে সাড়ে চার ফুট চওড়া সড়ক

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৭ ১৪২৬,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

অবশেষে সাড়ে চার ফুট চওড়া সড়ক

আমিনুল ইসলাম জুয়েল, পাবনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:২৩ ১১ জুন ২০১৯  

পাবনার বেড়া উপজেলার ইউএনও’র হস্তক্ষেপে হিন্দু পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষ চলাচলের সড়ক পেয়েছেন। উপজেলার আমিনপুর থানার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের হরিরাথপুর গ্রামের পুকুরচালাপাড়া এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এখানকার বাসিন্দাদের চলাচলের সড়ক না রেখেই দোকান, গুদাম ও অফিস ঘর নির্মাণ করেছিলেন।

বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য মাত্র দেড় ফুট চওড়ার সড়ক ছিল। এতে তারা এক রকম বন্দিজীবন কাটাচ্ছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই দেড় ফুট চওড়ার সড়ক বাড়িয়ে সাড়ে চার ফুট করা হয়েছে।    

স্থানীয়রা জানান, প্রায় পনের-বিশ বছর আগে এই স্থানে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সড়ক ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রভাবশালীরা সড়ক না রেখে দোকান, গুদামঘর ও অফিস ঘর নির্মাণ করায় এখানকার হিন্দু পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষ অনেকটা বন্দি হয়ে পড়েন। তাদের বাড়িতে চলাচল, রিকসা-ভ্যানে মালপত্র পরিবহন সবই প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। চলাচলের সড়ক না থাকায় তারা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করতে হাট-বাজারে যেতে পারতেন না।

মানিক কুমার শীল বলেন, একজন কোন রকমে বের হতে পারলেও কোন আসবাবপত্র অথবা একসাথে একাধিক ব্যক্তি চলাচল করা যেত না। কোন মানুষ অসুস্থ বা মারা গেলে তাকে তিন জন মিলে মাথার উপরে করে এলাকা থেকে বের করতে হত।

এ বিষয়ে পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে এম রফিকুল্লাহ বলেন, ঐ এলাকায় বসবাস করা হিন্দু সম্পদ্রায়ের মানুষগুলোর জন্য চলাচল করা আসলেও অসম্ভব ছিল। সবার প্রচেষ্টায় সেটার একটা স্থায়ী সমাধান হয়েছে।  দুই ফুটের চওড়া সড়কটি সাড়ে চার ফুট চওড়া হয়েছে।

ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, ঐ জায়গাটি ব্যাক্তি মালিকানাধীন তাই ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ আইন অনুসারে গণউপদ্রব হিসেবে জনগণের সুবিধার্থে মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দু’পাশ থেকে দেড় ফিট করে মোট সাড়ে চার ফিট সড়ক বের করতে সক্ষম হই। তবে এটা খুব কঠিন একটা কাজ ছিল।  কাজটা সমাধান হওয়াতে আমি নিজে থেকেই তৃপ্তিবোধ করছি। তবে এটা আমাদের সরকারি দায়িত্বের মধ্যেই পরে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম