অবশেষে মুখ খুললেন সুচি, বললেন রোহিঙ্গাদের রক্ষা করা হচ্ছে!

ঢাকা, রোববার   ২৬ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৬,   ২০ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

অবশেষে মুখ খুললেন সুচি, বললেন রোহিঙ্গাদের রক্ষা করা হচ্ছে!

 প্রকাশিত: ১৬:৪২ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭   আপডেট: ১১:৩০ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান মায়ানমারের সর্বশেষ রোহিঙ্গা সংকটে অবশেষে মুখ খুললেন দেশটির শান্তিতে নোবেলজয়ী গণতান্ত্রিক নেতা অং সান সু চি। তিনি বলেছেন, তার সরকার রাখাইনের রোহিঙ্গাদের সকলকেই রক্ষা করছে।

এবং তিনি অভিযোগ করেন রাখাইনে সহিংসতার বিষয়ে ভূলতথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যা সন্ত্রাসীদের স্বার্থেই করা হচ্ছে।

তু্রস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই মন্তব্যগুলো করেন।

গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে।

রোহিঙ্গারা মায়ানমারের একটি নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী যারা মায়ানমারে হত্যার শিকার হয়ে আসছে বহু বছর ধরেই।

শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি এই ইস্যুটির সমাধান করতে না পারায় বিশ্বব্যাপী অনেক সমালোচিতও হয়ে আসছেন।

মায়ানমারের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত সর্বশেষ সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, মিস সু চি এরদোয়ানকে বলেছেন, তার সরকার ‘ইতিমধ্যেই রাখাইন রাজ্যের সকল মানুষকে যতটা সম্ভব ততটা ভালো উপায়ে রক্ষা করা শুরু করেছে’।

ওই বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, রাখাইনে সংঘাত সম্পর্কিত যেসব ছবি প্রচার করা হচ্ছে সেসব ভুয়া এবং সাম্প্রদায়িক সংঘাত উস্কে দেওয়ার জন্যই এমনটা করা হচ্ছে যার মূল উদ্দেশ্য সন্ত্রাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা।

তবে বিশ্বব্যাপী মায়নমারের কর্তৃপক্ষের দিকেই এই সংঘাতে জন্য আঙ্গুল তোলা হচ্ছে।

বাংলাদেশের দুটি সরকারি উৎস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, মায়ানমার তার বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্ত এলাকায় নতুন করে স্থলমাইন পুঁতেছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশে চেষ্টার মধ্যেই তারা এই কাজ করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির মতে, ওই এলকায় বিস্ফোরণে দুটি শিশু এবং একজন নারীর মৃত্যুর খবরের মধ্যেই স্থলমাইন পোঁতার এই অভিযোগ আসল।

 ওই এলাকায় প্রথম মাইন পোঁতা হয় ১৯৯০-র দশকে। যাতে কেউ সীমান্ত পাড়ি দিতে না পারে। রয়টার্স জানিয়েছে নতুন করে মাইন পোঁতার অভিযোগ বিষয়ে অবশ্য মায়ানমার এখনো মুখ খোলেনি।

তবে সোমবার মিস সু চির মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘সীমান্তে তো সন্ত্রাসীরাও মাইন পুঁততে পারে, তাই না?’

গত ২৫ আগস্ট শুরু হয় মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের চলামন সংঘাত। মায়ানমারের দাবি রোহিঙ্গা ইসলামি জঙ্গিরা একটি পুলিশ চেকপোস্টে হামলা চালালে তাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান শুরু করা হয়। আর ওই সংঘাতের জেরেই লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে থাকে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা দাবি করেছে মায়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইন বৌদ্ধরা মিলে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এবং নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদেরকে হত্যা করছে।

অন্যদিকে মায়রনমারের সেনাবাহিনীর দাবি তারা রোহিঙ্গা ইসলামি জঙ্গিদের বিুরদ্ধে লড়ছে যারা নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর হামলা করছে।

শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চিও আগে থেকেই অস্বীকার করে আসছেন রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর জাতিগত কোনো নিধযজ্ঞ চালানো হচ্ছে না বলে। যদিও বাস্তবে তাই ঘটছে। ফলে এবার বিশ্বব্যাপী সু চির বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এবং তার নোবেল পুরস্কার বাতিল করারও দাবি উঠেছে। সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

 

Best Electronics