অবশেষে ত্রিপুরা থেকে ফিরলেন সেই দম্পতি

ঢাকা, রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৩ ১৪২৬,   ১২ শা'বান ১৪৪১

Akash

অবশেষে ত্রিপুরা থেকে ফিরলেন সেই দম্পতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:৫৪ ২৭ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৪:২৩ ২৭ মার্চ ২০২০

ইয়াকুব আলী এবং তার স্ত্রী শিরিনা বেগম (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

ইয়াকুব আলী এবং তার স্ত্রী শিরিনা বেগম (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

ভারতজুড়ে লকডাউনের ফাঁদে পরে চরম ভোগান্তির পর অবশেষে ত্রিপুরা থেকে দেশে ফিরেছেন ইয়াকুব দম্পতি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরেন তারা।

তারা হলেন, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামের ইয়াকুব আলী এবং তার স্ত্রী শিরিনা বেগম। দেশের মাটিতে পৌঁছে গত দুইদিনের চরম ভোগান্তির কথা জানান তারা। সেই সঙ্গে তারা বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন ও ত্রিপুরা রাজ্যের গণমাধ্যম কর্মীদেরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি স্বামীর লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে ভারতের চেন্নাই গিয়েছিলেন এই দম্পতি।

গত রোববার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বিমান যোগে চেন্নাই থেকে কলকাতা হয়ে তারা ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় পৌঁছান। আগরতলায় এসে তারা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারত সরকার ঘোষিত লকডাউনে আটকা পড়েন। পরে তারা আগরতলা শহরের খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে হৈ চৈ পড়ে।

আখাউড়া স্থলবন্দরে গত দুইদিনের দুঃসহ কষ্টের বর্ণনা দিয়ে শিরিনা বেগম জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে সরকারের লকডাইন থাকায় অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে আগরতলায় এসে বিপাকে পড়ে যাই। আগরতলা থেকে বাংলাদেশে আসার কোনো সুযোগ ছিল না। লকডাউনের কারণে আগরতলা শহরে কোনো আবাসিক হোটেল কিংবা গেস্ট হাউজ কোনোটাই খোলা ছিল না। পুরো শহর ছিল জনমানব শূন্য। সেখানে কোথাও থাকার ব্যবস্থা না পেয়ে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকি। 

পরে সেখানকার গণমাধ্যম কর্মীরা আমাদের অসহায়ত্বের খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে পত্রিকায় তুলে ধরেন। পরে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন ও ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন আমাদের খুঁজে বের করেন। পরে আগরতলা হজ ক্যাম্পে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেন তারা। বৃহস্পতিবার সকালে ত্রিপুরা পুলিশের একটি গাড়িতে করে তারা বাংলাদেশে আসার জন্যে আগরতলা ইমিগ্রেশনে আসেন। পরে সেখানে (আগরতলা ইমিগ্রেশনে) প্রবেশকালে তাদের আটকে দেয় বিএসএফ। পরে আবারো গণমাধ্যমকর্মী এবং বাংলাদেশের উপ-হাই কমিশনকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। পরে তারা ত্রিপুরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে আমাদের দেশের মাটিতে ফেরার ব্যবস্থা করেন।
 
শিরিনা বেগম বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যে লকডাউন থাকা সত্ত্বেও নিজ দেশে ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়ায় ত্রিপুরা রাজ্য সরকার ও বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। 

অসুস্থ ইয়াকুব আলী বলেন, এমন ঘটনা বর্ণনা করার মতো নয়। তবে ধন্যবাদ সে দেশের গণমাধ্যম কর্মীদের। আর কিছু বলতে চাই না। 

ইয়াকুব আলী এবং তার স্ত্রী শিরিনা বেগম (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)ভারতের ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনার কিরীটি চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, আগরতলার সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ওইদিন রাতেই দম্পতিকে মেডিকেল চেকআপের পর তাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় অসুস্থ এ দম্পতিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আখাউড়া-আগরতলা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সীমান্ত পথে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।

আখাউড়া ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ আবদুল হামিদ বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারতজুড়ে লকডাউন চলছে। ভারতে লকডাউনের মধ্যেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত শিরিন দম্পতিসহ ১৫ জন বাংলাদেশি যাত্রী দেশে ফিরেছেন। এসপির নির্দেশে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ইয়াকুব দম্পতিকে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম