অবশেষে চালু হল সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

অবশেষে চালু হল সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ০৮:২২ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ০৮:২২ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর ময়মনসিংহের নান্দাইলের দেউলডাংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবশেষে চালু হয়েছে। রোববার এমপি আনোয়রুল আবেদিন খান তুহিন এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান শুরু উদ্বোধন করেন।

২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি বিদ্যালয় ভবনটি উদ্বোধন করেন এমপি তুহিন। এরপর জনৈক এক নারীর দায়ের করা মামলার কারণে বিদ্যালয়টি চালু করা যায়নি। এই অবস্থায় তুহিন ওই গ্রামের জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন মামলা চলমান থাকলেও এলাকার স্বার্থে দ্রুত বিদ্যালয়টি চালু করে পাঠদানের ব্যবস্থা করতে।

এই নির্দেশনায় ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে নজরুল ইসলাম ও আনিছা চৌধুরী নামে দুজন শিক্ষককে সংযুক্ত করে পাঠদানের ব্যবস্থা করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। পরে গত ৯ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়।

নান্দাইল প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সূত্র থেকে জানা জানা যায়, দেউলডাংরা গ্রামের ফাহমিদা ইয়াসমীন নিজেকে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দাবি করে ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট (নম্বর ৯৬২৪/২০১৪) আবেদন করেন। রিটটি বিচারক ফারাহ মাহবুব ও কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি হয়। পরে আদালত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে মধ্য দেউলডাংরা ভূঞা স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে কয়েক শ পৃষ্ঠার নথিপত্র প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন পাঠানোর পর তিনটি শিক্ষাবর্ষ পার হয়ে যায়। কিন্তু চতুর্থ বর্ষের পাঠদান কার্যক্রম শুরু করার জন্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে গ্রামের শত শত শিশুকে প্রতিদিন দু-তিন মাইল পায়ে হেঁটে অন্য বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এই অবস্থায় এলাকার সাংসদ ঘটনাটি নিয়ে দশম জাতীয় সংসদেও কথা বলেন। পরে মামলা চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিদ্যালয় নিয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

এ বিষয়ে নান্দাইল  টিএনও মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক বলেন, খুব দ্রুত আরো প্রয়োজনীয় শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে আনুষাঙ্গিক সকল কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে