অবলা প্রাণী হয়েও মানুষের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা

ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

অবলা প্রাণী হয়েও মানুষের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা

মো. হাসানুজ্জামান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৯ ৩১ মার্চ ২০২০  

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

ঘটনা বহুল আমাদের এই পৃথিবী। এগিয়ে চলার পথে সবই যে ভালো ঘটনা ঘটে তা নয়, কিছু কিছু খারাপ ঘটনাও ঘটে। ইতিবাচক মানসিকতা, সাহস, আত্মত্যাগের মতো মহৎ গুণে মানব কল্যাণের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। শুধু মানুষই যে পৃথিবীতে মহৎ কাজের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে তা নয়। কিছু ক্ষেত্রে অবলা প্রাণীও তার গণ্ডির সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে মর্মস্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। তেমনই কয়েকটি প্রাণীর কথা এই লেখায় স্থান পেয়েছে-

১। ড্যাসার, বিশ্বস্ত বন্ধু এবং কর্তব্যনিষ্ঠ অভিভাবক

ড্যাসারঅসাধারণ এই জার্মান শেফার্ডের বসবাস অস্ট্রেলিয়ার মিল্ডুরায়। ড্যাসার যখন সাত বয়সী ছোট কুকুর ছানা ছিল তখনই নিজের কর্তব্যনিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এই কুকুরটি নিজের মালিকের শিশুকে বাঁচাতে ১৪ ঘণ্টা ঝড়ের মধ্যে একটি বাগানে পাহারারত ছিল। দুই বছর বয়সী দান্তে বেরি বাবা মায়ের অগোচরে খেলতে গিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি জঙ্গলে চলে যায়। বেরির পিঁছু কিন্তু ছাড়েনি বিশ্বস্ত বন্ধু ছোট্ট কুকুর ছানা ড্যাসার। বেরি বাসায় ফেরার পথ ভুলে যায় এর কিছুক্ষণ পর ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়।

ছোট্ট বেরিএদিকে বেরির বাবা মা তাকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। কারণ প্রচণ্ড ঝড়ে রাস্তায় গাছপালা ভেঙে পড়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। ফলে পুলিশ আবহাওয়া ভালো না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর বেরিকে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় কিন্তু তার মধ্যে কোনো ভীতি বা উদ্বেগ ছিল না। পুরোটা সময় তাকে কুকুর ছানা ড্যাসার দেখে রেখেছিল।

২। রক্ষাকারী ডলফিন

টড এন্ড্রিসটড এন্ড্রিস একজন প্রফেশনাল সার্ফার। সে ২০০৭ সালের আগস্ট মাসে সমুদ্রে ৫ মিটার লম্বা একটি হাঙরের আক্রমণের শিকার হয়। এ আক্রমণ থেকে তাকে রক্ষা করে একদল ডলফিন। ভয়ঙ্কর হাঙরের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য লড়াই করতে গিয়ে টড এক সময় শরীরের প্রায় সব শক্তি হারিয়ে ফেলে। ঠিক তখনই একদল ডলফিন আহত সার্ফার টডকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। ডলফিনগুলো তার চারপাশে প্রতিরক্ষামূলক বলয় তৈরি করে আক্রমণকারী হাঙরটিকে দূরে সরিয়ে রাখে। অপ্রত্যাশিত এই উদ্ধারকারী ডলফিনের দলটি টডকে তীর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল। 

৩। চার এ্যামি, বার্তাবাহক পায়রা

চার এ্যামিপ্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কর্পস প্রায় ৬০০ প্রশিক্ষিত পায়রা ব্যবহার করেছিল বার্তা আদান প্রদানের জন্য। চার এ্যামি এই বার্তাবাহী পায়রা দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল। সে এক বছরে ১২টি যুদ্ধ সংক্রান্ত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যথাযথভাবে পৌঁছে দেয়। ১৯১৮ সালের অক্টোবর মাসে ফ্রান্সের মিউস-আর্গোন আক্রমণের সময় চার এ্যামির শেষ বার্তা বহন ছিল। পায়রাটি যাত্রা পথে বুকে আঘাত পেয়েছিল, এক চোখ অন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং এক পা হারিয়েছিল। তারপরও গন্তব্যে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল সে। এই বার্তা মিত্র বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ২০০ সৈন্যের জীবন রক্ষা করেছিল। টাইম ম্যাগাজিন ২০১১ সালে চার এ্যামিকে পৃথিবীর সেরা ১০ বীর প্রাণীর তালিকায় স্থান দিয়েছে।

৪। রক্ষাকারী সিংহ

রক্ষাকারী সিংহএকটি হিংস্র শিকারী প্রাণীও যে মানুষের প্রতি সহানুভূতীশীল হতে পারে কিংবা রক্ষা করতে পারে তা হয়ত অনেকই বিশ্বাস করবে না। তবে পৃথিবীতে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যা অবিশ্বাস্য হলেও বাস্তব। ২০০৫ সালে ইথোপিয়ায় ১২ বছরের একটি মেয়েকে জোরপূর্বক বিয়ে করার জন্য একদল পুরুষ অপহরণ করে নিয়ে যায়। এক সপ্তাহ পর মেয়েটিকে ৩টি সিংহের পাহারারত অবস্থায় জঙ্গল থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় লোকগুলো মেয়েটিকে মারছিল যা দেখে সিংহগুলো অপহরণকারীদের তাড়া করে তাকে উদ্ধার করে। পুলিশ যখন ছোট মেয়েটিকে নিয়ে যাচ্ছিল সিংহগুলো তার পিছনে হাঁটছিল তবে মেয়েটি নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে গেলে তারা জঙ্গলে ফিরে যায়।

৫। সেবিকা বিড়াল

সেবিকা বিড়ালবিড়ালটির নাম র‍্যাডেমিনিস। ২০১৪ সালে শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ব্যাধি এবং বেদনার জন্য বিড়ালটিকে পোল্যান্ডের পশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল। তার মালিক মূলত ব্যাধির জটিলতা দেখে তাকে মেরে ফেলার জন্য বলেছিল কিন্তু আশ্রয়কেন্দ্রের ডাক্তাররা শেষ চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন। সবাইকে অবাক করে বিড়ালটি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। এরপর থেকে বিড়ালটি পুনর্বাসন কেন্দ্রের অসুস্থ আন্যান্য প্রাণীদের সেবা করতে থাকে। জীবনের পুরোটা সময় পুনর্বাসন কেন্দ্রের অসুস্থ প্রাণীদের সেবা করে কাটায় বিড়ালটি।   

৬। বন্ধুত্বপূর্ণ নেকড়ে, রোমিও

রোমিওনিক জ্যান্স একজন ফটোগ্রাফার এবং লেখক। তিনি বহু বছর বন্য প্রাণীর জীবন এবং প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করেছেন। শীতের এক সন্ধ্যায় আলাস্কায় নিকের বাসার বারান্দায় নেকড়েটি আসে। ধীরে ধীরে নেকড়েটি আশেপাশের সব প্রাণী এবং মানুষের সখ্য হয়ে ওঠে, সবার সঙ্গে খেলতে থাকে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নেকড়েটি মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ জীবন যাপন করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস