Alexa অবরুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মুক্ত করলেন ইউএনও

ঢাকা, শুক্রবার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৬,   ০৪ রজব ১৪৪১

Akash

অবরুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মুক্ত করলেন ইউএনও

লালমনিরহাট প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৯ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:২১ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘ডেইলি বাংলাদেশে’ সংবাদ প্রকাশের পর লালমনিরহাটের আদিতমারীতে অবরুদ্ধ সেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মুক্ত করলেন ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করে দেন ইউএনও।

এর আগে, একই দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রাস্তা বন্ধ দেখে পুরো পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপজেলার দুর্গাপুর চেয়ারম্যানটারির মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম।

উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম ও তার ভাগ্নে জহুরুল ইসলামের ছেলে আসাদের মাঝে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। আবুল কাসেম পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বোনের অংশ বসতভিটার পাশে ভাগ্নে আসাদকে বুঝিয়ে দেন। ইউপি চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান প্রামাণিক নিজ বসতভিটায় জমি বুঝে দেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধাকে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে আবুল কাসেম রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

এরই জের ধরে ১৭ জানুয়ারি বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রামাণিক দলবল নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাকে পরিবারের সদস্যদের সামনে লাঞ্চিত করেন। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এলে ছালেকুজ্জামান প্রামাণিক দ্রুত বসতভিটা খালি করে জমি বুঝে দিতে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন। নির্দেশ অমান্য করলে মুক্তিযোদ্ধাকে স্বপরিবারের হত্যা করে বসতভিটাহীন করে জমি দখলের হুমকি দেন। এতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম।

এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২জনের বিরুদ্ধে ১৯ জানুয়ারি আদিতমারী থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে আসাদ দলবল নিয়ে বুধবার রাতে বাঁশের বেড়া দিয়ে আবুল কাসেমের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করেন। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে রাস্তা বন্ধ দেখে পুরো পরিবারের ১২ সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অবরুদ্ধ থাকায় ওই পরিবারের চার শিশু বিদ্যালয়েও যেতে পারেনি।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ‘ডেইলি বাংলাদেশে’ ‘আদিতমারীতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার অবরুদ্ধ’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে মুহূর্তে ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ওই দিন রাতে থানা পুলিশ গিয়ে সাময়িক চলাচলের জন্য বেড়া খুলে দেন।

একই দিনে অবরুদ্ধ আবুল কাসেমের বাড়ি যান আদিতমারীর ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। সেখানে উভয় পক্ষকে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার চলাচলের জন্য সাত ফুট প্রস্থের একটি রাস্তা বের করে উভয়ের মাঝে সমঝোতা করে দেন ইউএনও।

ডেইলি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবুল কাসেম বলেন, নির্যাতিতদের স্বার্থে বাস্তব চিত্র তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করায় ডেইলি বাংলাদেশ-এর প্রতি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কৃৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মুক্তিযোদ্ধার কথা শুনে ছুটে এসে সমঝোতা করে দেয়ায় ইউএনওকেও ধন্যবাদ। এটাই স্বাধীনতা।

আদিতমারীর ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন ‘ডেইলি বাংলাদেশ’কে বলেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা করে মুক্তিযোদ্ধার চলাচলের জন্য সাত ফুট প্রস্থের একটি রাস্তা বের করে দেয়া হয়েছে। এতে যা খরচ হবে তা দুর্গাপুর ইউপি বহন করবে।

এ কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে থানা পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ রাস্তা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত পূর্বের রাস্তায় চলাচল করবেন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার বলেও জানান তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে