Alexa অপ্রাপ্তবয়স্কদের ইন্টারনেট ব্যবহারে থাকুক সীমারেখা 

ঢাকা, সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৮ ১৪২৬,   ২৩ মুহররম ১৪৪১

Akash

অপ্রাপ্তবয়স্কদের ইন্টারনেট ব্যবহারে থাকুক সীমারেখা 

 প্রকাশিত: ১৮:৫৭ ১৭ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৮:৫৮ ১৭ আগস্ট ২০১৯

দৃশ্যত পরিচয়ে সাহাদাৎ রানাকে সাংবাদিক হিসেবেই চেনে সবাই। তবে শুধু সাংবাদিক তিনি নন। গল্প, কবিতা লেখা, সাংগঠনিক দক্ষতাসহ তার রয়েছে নানা গুণ। বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজে কর্মরত রয়েছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য এই সাংবাদিক।

নিত্যদিন নাগরিক জীবনে ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য রূপ পেয়েছে। বাস্তবতার নিরিখেই এটা হয়েছে। 

ইন্টারনেট আমাদের সামনে আজ অসীম তথ্য ভাণ্ডারের দ্বার উন্মোচন করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে সহজতর। বিশেষ করে মুঠোফোনে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিধি আরো বিস্তৃত হয়েছে। ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে এখন শুধু একটি নিদিষ্ট বয়সের মানুষই শুধু ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। বরং এখন শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়স সবাই যার যার প্রয়োজন মিটিয়ে থাকেন ইন্টারনেটকে মাধ্যম করে। যুক্ত থাকেন দিনের অনেকটা সময়। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির কারণে। একদিকে এর যেমন সুফল আছে তেমনি রয়েছে কুফলও। আর উভয় বিষয়েই আমরা কমবেশি অবগত। তবে এর কুফলটা বর্তমান সময়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। 

বিশেষ করে আমাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহার রীতিমতো আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। ইন্টারনেট ব্যবহারে দোষের কিছু নেই। তবে সম্প্রতি আমাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ইন্টারনেটের প্রতি অতি আসক্তি রীতিমতো ঝুঁকি তৈরি করছে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না ইন্টারনেট আমাদের সবার কাছে অসীম তথ্যভান্ডার; যা আমাদের সন্তানদের জন্য যেমন শিক্ষা ও বিনোদনের দ্বার উন্মোচিত করেছে তেমনি ফেলেছে অস্বস্তিতেও। এখন আমরা আমাদের কর্মব্যস্ততার কারণে আমাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছি মোবাইল ফোন। এর পেছনে রয়েছে অনেকগুলো ইতিবাচক দিক। বিশেষ করে কর্মজীবী পিতা-মাতা যেন তাদের সন্তানদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখতে পারেন। এছাড়া সন্তানদের দেয়া হচ্ছে কম্পিউটার। যাতে তারা দ্রুত পৃথিবী সর্ম্পকে জানতে পারে। এতে একদিকে সন্তানের মানসিক বিকাশ যেমন হচ্ছে তেমনি, নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে পরিচিত করতে সক্ষম হচ্ছে। কারণ শিশুরা এই দুনিয়ার বাইরের কেউ নয়। প্রতিযোগিতার বাজারে এগিয়ে যেতে হলে এটা প্রয়োজন; সময়ের দাবিও। কিন্তু নেতিবাচক কিছু কর্মকাণ্ডে এসব অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েরা জড়িয়ে পড়ায় উঠেছে প্রশ্ন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেটের অপব্যবহারের কারণে শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতীসহ নানা বয়সী মানুষ আজ অনেকটা হুমকির মুখে। বিশেষ করে প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারে সমাজে বাড়ছে ধর্ষণ, নির্যাতন ও যৌন হয়রানির মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনা। এর জন্য ইন্টারনেট বা প্রযুক্তি কোনভাবেই দায়ী নয়। দায়ী আমরা। আমাদের সচেতনতার অভাব প্রধানত মূল কারণ। এটা সত্যি তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে প্রযুক্তি ছাড়া আমরা ভাবতে পারি না একটি মুহূর্তও। এর থেকে প্রতিকারের জন্য তাই নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে অবগত হওয়া খুবই জরুরি। বিশেষ করে যখন অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা ব্যবহার করছে ইন্টারনেট। 

সম্প্রতি আরও কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। বিশেষত ফেসবুক ও ভিডিও গেমস আসক্তি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্ধ করে দিচ্ছে। ভুলে যাচ্ছে হিতাহিত জ্ঞান। ফেসবুকে যা ইচ্ছে লিখছে, শেয়ার করছে। আবার কখনো এমন কিছু করছে যাতে নিজে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্র। আর এটা হচ্ছে নির্দিষ্ট কোনো বয়সের মধ্যে ফেসবুক নিবন্ধনের নিয়মনীতি না থাকায়। আর এই সুযোগে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোররা যুক্ত হচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফেসবুক ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য সামাজিক মাধ্যম। এসব সাইটে কিশোরদের সম্পৃক্ততা তাদের নানাবিধ ঝুঁকিতে ফেলছে। অকারণে অপরিচিত মানুষ আপন হয়ে নানা ক্ষতিসাধন করছে। অপরাধে পথে পা রাখতে উৎসাহিত করছে। তাদের ব্যবহার করছে টোপ হিসেবে। এক গবেষণায় দেখা গেছে সারা দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একটি বড় অংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। আর সাইবার অপরাধের দিকে এখন বেশি ঝুঁকছে ১৮ বছরের কম বয়সীরা। এর কারণ আর কিছুই নয়, এই বয়সটা আসলে ভীষণভাবে রোমাঞ্চমুখী। ফলে তারা অগ্রপশ্চাৎ না ভেবেই ভুল পথে পা রাখে। এটা সত্যিই আমাদের জন্য শঙ্কার কথা। 

এছাড়া আমাদের সন্তানরা দিন দিন কম্পিউটার গেমসেও আসক্ত হয়ে পড়ছে। আগে দোকানে গিয়ে ভিডিও গেমস খেলার সুযোগ থাকলেও এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অতি সহজে তা করতে পারছে। আর এটা বেশির ভাগ সময় অভিভাবকদের সামনেই হয়ে থাকে। অভিভাবকরা চিন্তা করেন তার সন্তান যেন কোন একটি কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাই তারা এটা নিয়ে সেভাবে মাথা ঘামায় না। কিন্তু এমন নীরব সম্মতি দিয়ে আমরা আমাদের সন্তানদের কী ভয়ানক ক্ষতি করছি তা নিয়ে ভাবছি না। তাই এখানে অভিভাবকদের দায় সবার আগে। কেননা, আমাদের সামনে সন্তানরা দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে আছে, তারা বুঝতে পারে না যে এর মাঝে সতর্ক হওয়া কতটা জরুরি।

গবেষণায় প্রকাশ দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহার করলে মানুষের মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। সব বয়সী মানুষের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য। তবে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি। তাই এ বিষয়ে একটু বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে। কারণ আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাই আমাদের কোমলমতি শিশু-সন্তান থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের এসব ব্যবহারে আমাদের আরও সচেতন হওয়ার এখনই সময়।

তবে এর জন্য সন্তানদের ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে সরিয়ে আনতে হবে তা এমন নয়। বরং সন্তানদের ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে সরিয়ে না এনে সময়োপযোগী কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে অভিভাবকদের। আমাদের সন্তানদের সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক। সন্তানটি যেন তার সব কথা মা-বাবা-ভাই-বোনের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে সেই সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে অভিভাবকদেরই। তবেই আমরা গড়ে তুলতে পারব শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ। তাই সব অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। কারণ এখনই সময়। আর পেছনে ফিরে তাকানোর সময় নেই। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর