Alexa অপেক্ষা ভোট উৎসবের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৭ ১৪২৬,   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

অপেক্ষা ভোট উৎসবের

 প্রকাশিত: ১১:৫১ ২০ ডিসেম্বর ২০১৭   আপডেট: ১৩:২৭ ২০ ডিসেম্বর ২০১৭

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক) নির্বাচন বৃহস্পতিবার। নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয় সে জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কমিশন। নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবি মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। এখন শুধুই অপেক্ষার পালা।

এই নির্বাচনকে ঘিরে গোটা নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে। নগরী জুড়ে বাসানো হয়েছে পুলিশের চেক পোষ্ট। বর্ডার গার্ডের সদস্যরা টহল দিচ্ছেন ৩৩ ওয়ার্ডে।

ভোট গ্রহণ করা হবে ৩৩টি ওয়ার্ডের ১৯৩ টি ভোট কেন্দ্রের ১ হাজার ১২২টি কক্ষে। সকাল ৮ টা থেকে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহন চলবে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত। প্রায় ৪ লাখ ভোটার তাদের ভোটধিকার প্রয়োগ করবেন। এজন্য মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ ঘোষণা করেছেন রিটানিং কর্মকর্তা। বহিরাগতদের ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

রংপুর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নগরীর শালবন সরকারী বেগম রোকেয়া কলেজ কেন্দ্রে ইভিএম মেশিন বসানো হয়েছে। ইভিএম মেশিনে ২ হাজার ৪৪ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এছাড়া সিসি ক্যামেরা আওতায় আনা হয়েছে সরকারী বেগম রোকেয়া কলেজ, সাকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং লায়ন্স স্কুল ও কলেজ ভোট কেন্দ্র।

ইতিমধ্যে ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপার, সীলসহ নির্বাচনী যাবতীয় সামগ্রী পুলিশ কমিউনিটি সেন্টারে রাখা হয়েছে। আজ বুধবার ভোট কেন্দ্রগুলোতে এসব সামগ্রী পাঠানো হবে। অপরাধীরা যাতে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে এজন্য গুরুত্বপূর্ণ ৮টি স্থানে স্থাপন করা হয়েছে চেকপোষ্ট। এসব স্থানে ব্যাপকভাবে তল্লাশী কার্যক্রম চলছে।

এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে ২২ ডিসেম্বর রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল এবং আজ থেকে সব ধরনের যন্ত্রচালিত বাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পরিপত্রে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা যানবাহনের মধ্যে রয়েছে, বেবিট্যাক্সি, অটো রিকশা, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক ও টেম্পো।

নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে নামতে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও নিজস্ব কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিনটি ওয়ার্ডে একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোস্তফা ফারুককে প্রধান সমন্বয়কারী করে ১১ জন ইসির পর্যবেক্ষক মাঠে থাকছেন মঙ্গলবার থেকেই।

ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ১৯৩টি কেন্দ্রে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে অনুন্নত ও সংখ্যালঘু এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাড়ে ৫ হাজার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য থাকবে। এর মধ্যে পুলিশ বাহিনীর সদস্য থাকবে ৩ হাজার। এর মধ্যে ২১ প্লাটুন বিজেবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ প্লাটুন বিজেবিকে দুই ভাগে বিভক্ত থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২৪ জন করে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ৩৩ জন নির্বাহী ও ১১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে। ৮ সদস্যের র‌্যাবের ৩৩টি দল কাজ করবে।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, সিটির ভোটার নয়, এমন বহিরাগতদের সিটির বাইরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। হোটেল মোটেলে যাতে কোন প্রকার বহিরাগত রাতযাপন করতে না পারে সেজন্য চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

ডিআইজি বলেন, ভোটের আগে-পরে এমনকি ভোটের দিন যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে, সেজন্য তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের খুঁজছে পুলিশ। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য নগরীকে চারটি ভাগে ভাগ করে নেয়া হয়েছে। চেক পোষ্ট বসিয়ে এরই মধ্যে নম্বরবিহীন দুইশ মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ