Alexa অপারেশন থিয়েটার থাকলেও নেই ডাক্তার

ঢাকা, রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৬,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল

অপারেশন থিয়েটার থাকলেও নেই ডাক্তার

আমজাদ হোসেন মিন্টু, বগুড়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১২ ১০ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৪:৩১ ১০ জুন ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়া আড়াইশ বেড়ের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা চলছে মাত্র ২জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রতিনিয়তই বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল বর্তমানে ডাক্তার, নার্স, কর্মচারী সংকটে চিকিৎসা সেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। চক্ষু বিভাগের ভাল একটি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও ডাক্তারের অভাবে এটি ৬ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে সৃজনকৃত সিনিয়র কনসালটেন্ট পদে ১১জনের পদ থাকলেও আছে শুধু মাত্র ২জন সিনিয়র কনসালটেন্ট। জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ রয়েছে ১০টি পদ। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছে ৭জন। ৩টি পদ এখনো শুন্য। সিনিয়র কনসালটেন্ট ২জন এবং জুনিয়র কনসানটেন্ট ৭জন দিয়ে চলছে এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। এই ৯জন ডাক্তার দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮শ' রোগী চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে ১৪টি। এরমধ্যে ৪টি পদ এখনও শুন্য রয়েছে। সহকারী রেজিষ্টারের ১৬টি পদের মধ্যে ৮টি পদ শুন্য। দীর্ঘদিন ধরে চক্ষু বিভাগে নেই কোন ডাক্তার। একজন ডাক্তার ছিলেন তিনিও সেচ্ছায় অবসর নেয়ায় এই বিভাগে আর কোন ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়নি। চক্ষু বিভাগের ভাল একটি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও এটি ৬ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় এই হাসপাতালটিতে জন্ম থেকেই কার্ডিওলজি ও অর্থোপেডিক বিভাগ নেই। এই কারণে এখানে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারও নিয়োগ দেয়া হয়নি। এখানে কার্ডিওলজি ও অর্থোপেডিক বিভাগের প্রচুর রোগী থাকলেও তারা এখান থেকে কোন চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। হাসপাতালটিতে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ২টি পদের মধ্যে ১টি পদ শুন্য রয়েছে। মেডিকেল অফিসার শিশুর ১টি পদ। সেটিও দীর্ঘদিন ধরে শুন্য। অপারেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যানেসথেসিয়া। কিন্তু অ্যানেসথেসিয়া ৩টি পদের মধ্যে ১টি পদ শুন্য। এতে হাসপাতালে প্রতিদিনের অপারেশন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া প্যাথলজিষ্টের ২টি পদের মধ্যে ১টি শুন্য। সেবা তত্বাবধায়কের পদটিও শুন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। নার্সিং সুপারভাইজারের ১০টি পদে কর্মরত রয়েছে ৪জন। ৬১ জন ষ্টাফ নার্স’র মধ্যে ৫৯ জন কর্মরত রয়েছে। নার্সিং এটেনডেন্সের ৬টি পদের মধ্যে রয়েছে ৪জন। মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত ৪১০ পদের মধ্যে ৩৪৩জন কর্মরত রয়েছেন। বাকী ৬৭জনের পদই শুন্য রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ শুন্য রয়েছে।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ররোয়া গ্রামের হামেদ আলী এসেছিলেন চোখের ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু এই বিভাগে কোন ডাক্তার না থাকায় তিনি চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে গেলেন। মহিলা ওয়ার্ডে আলেয়া নামে এক রোগী বলেন, টাকা নেই তাই সরকারি হাসপাতালে পড়ে রয়েছি। কিন্তু ডাক্তারের দেখা মিলছে না। আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শফিক আমিন কাজল জানান, জনবল সংকট থাকা সত্বেও হাসপাতালটি এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োনীয় চিকিৎসক সহ কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ পাব আমরা।

হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম নুরুজ্জামান জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ জনবল সংকট রয়েছে। এই সংকট মোকাবেলার চেষ্টা চলছে। সরকার ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছে আমরা হয়তো এখান থেকে কিছু ডাক্তার পাব। এখান থেকে কিছু ডাক্তার আর সরকার যদি কিছু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিযোগ দেন তাহলে আমাদের আর কোন সংকট থাকবে না।

এছাড়া সরকার এ অঞ্চলের আগুনে ও এসিড পোড়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে বার্ন ইউনিট স্থাপন করেছে। বার্ন ইউনিটের নির্মাণ কাজও শেষ হয়েছে। এখন ডাক্তার ও অন্যান্য স্টাফ নিয়োগ দেয়া হবে। সব মিলিয়ে ডাক্তার নিয়োগ শেষ হলে হয়তো শুন্যপদের বিপরীতে আমরা ডাক্তার পাবো। তিনি আরো বলেন, সংকট থাকা সত্বেও প্রতিমাসে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা সরকারকে রাজস্ব দেয়া হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস