Alexa অন্য রকম ভালোবাসা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯,   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬,   ১৫ সফর ১৪৪১

Akash

অন্য রকম ভালোবাসা

 প্রকাশিত: ১২:৫৪ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ১৩:২৪ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ছবি- সংগৃহিত

ছবি- সংগৃহিত

রাস্তার পাশে এক টুকরো আমনের ক্ষেত। পাকা ধান যেন হেসে হেসে দোল খাচ্ছে মৃদু বাতাসে। মাঠে ধান কাটায় ব্যস্ত এক কৃষক। আর মাঠের পাশে আধামড়া একটি খেজুর গাছের তলায় সাদা কাপড়ে বসে আছেন শতবর্ষী এক নারী।

গ্রামটির নাম খাজুরা। ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নের এ গ্রামটিতে এক সময় বিপুলসংখ্যক খেজুর গাছ ছিল বলে এর নামকরণ হয়েছে খাজুরা, জানান গ্রামের জ্যেষ্ঠরা। সেই গ্রামেরই বাসিন্দা শতবর্ষী ওই নারী - হিমাঙ্গিনী চক্রবর্তী।

শরীরে মাংসপেশী নেই বললেই চলে। হাড়গুলো যেন শরীর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। আর হাড়ের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে থাকা অমসৃণ চমড়ায় পড়েছে ভাঁজ। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছেন তিনি, গুণছেন জীবনের শেষগুলো।

এক ছেলে ছাড়া তিন কূলে আর কেউই নেই এ শতবর্ষী নারীর। ছেলে স্বর্ণ কুমার চক্রবর্তী মাঠে কৃষিকাজ করেন। একমাত্র ছেলেকে চোখে হারান এই মা। ছেলে যখন মাঠে কাজ করেন, মাঠের পাশে বসে আপন মনে ছেলের কাজ দেখেন তিনি। 

মধ্যবয়সী স্বর্ণ কুমার জানান, তার মা এখন চলাফেরা করতে পারেন না। ক্ষেত থেকে কিছুটা দূরে তাদের বাড়ি। সংসারে তেমন অভাব অনটন নেই। ১২ মাস ধান-সবজির চাষে সংসার সুখেই চলে। তবে মাঠে কাজ করার সময় মাকেও সঙ্গে আনতে হয় রোজ। তিনি মাঠের পাশে বসে থাকেন আর ছেলে আপন মনে কাজ করে যান। এ রোজকার রুটিন। আবার এক সঙ্গেই বাড়ি ফেরেন তারা।

প্রায় অচল বৃদ্ধা মাকে কোলে তুলে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে। নিজেকে সামলে ভালো করে হাঁটতে পারেন না এই মা। তবু কেন এই মাঠে আসা আর কেনই বা মাঠের পানে বৃদ্ধার ঝাঁপসা চোখে তাকিয়ে থাকা?  

ছেলে স্বর্ণ কুমারের উত্তর - আসলে ছেলেকে চোখের আড়াল করবেন না বলে মায়ের আবদার তাকেও মাঠে নিয়ে যেতে হয়। যতক্ষণ তার মানিক কাজ করবেন, তিনিও কাছেই বসে থাকবেন অকৃত্রিম মমতার আঁচল পেতে। মায়ের সান্তনা বুকের মানিক বুকে, আর আছে তার চোখে চোখে!

ডেইলি বাংলাদেশ/নিশি/এসআর