Alexa অন্যকে বাঁচানো সাদিয়ার বাঁচার আকুতি

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ২ ১৪২৬,   ১৭ মুহররম ১৪৪১

Akash

অন্যকে বাঁচানো সাদিয়ার বাঁচার আকুতি

ডেস্ক নিউজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০০ ১৮ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৮:০১ ১৮ আগস্ট ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নিজে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছেন একাধিক মুমূর্ষ রোগীকে। কিন্তু এবার সাদিয়া নিজেই মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন।

রাজধানীর বিমানবন্দরের কাওলা এলাকায় সাদিয়ার বাসা। উত্তরার আর এম সি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাদিয়া। শুক্রবার মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিলেন সাদিয়ার বাবা মঈন উদ্দিন হেলালী।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যেন কোনো মেয়েকে এমন রোগ না দেয়। মেয়ের কষ্ট দেখে আর থাকতে পারছি না। কয়েকদিন আগে আবারো দুটি টেস্ট করিয়েছি। প্রায় ১ লাখ টাকা লেগেছে। এ পর্যন্ত মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিজের ভিটেমাটিটাও বিক্রি করে দিয়েছি। আর পারছি না। বাধ্য হয়ে মেয়ের জীবনের জন্য সবার দারস্থ্য হতে হচ্ছে। ডাক্তাররা আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এত ব্যয়বহুল চিকিৎসার ভারে অসহায় হয়ে পড়ছি। এখন হাসপাতালে প্রতিদিনের চিকিৎসা ব্যয় ও সিট ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ কোনোভাবেই মেটাতে পারছি না। 

তিনি আরো বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিনীত আবেদন, উনি যদি আমার মেয়েটার দিকে তাকাতেন…..!’

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোলন ও ওভারি ক্যান্সার দুটির চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এই মুহূর্তে অর্থ যোগানের বিকল্প নেই। শিগগিরই তিনটি কেমো থেরাপি বিদেশ থেকে আনতে হবে। যার একেকটির ব্যয় পড়বে ৬ লাখ টাকা।

সাদিয়া সরকারি তিতুমীর কলেজের রসায়ন বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। ২০১৮ সালে মে মাসে পরীক্ষার কেন্দ্রে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে উত্তরা মহিলা মেডিকেল ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন সেখানে চিকিৎসা নেয় সাদিয়া। পরে অবস্থার আরো অবনতি হলে উত্তরার আর এম সি হাসপাতালে জরুরি অপারেশন করা হয়। পরে কোলন ক্যান্সার ধরা পড়ে।

মাঝে কিছুদিন সুস্থ্য ছিলেন সাদিয়া। নিয়মিত নিজের ক্লাস ও টিউশনিও করেছেন। কিন্তু গত রমজানের আগে আবার ব্যথা শুরু হলে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান বিদ্যুতের তত্ত্বাবধানে এখন আলোক হাসপাতালে সাদিয়ার চিকিৎসা চলছে।

সাদিয়ার মা কামরুন নাহার বলেন, ৮ টি কেমোথেরাপির পর আরো একটি অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখে ক্যান্সার সমস্ত পেটে ও জরায়ুতে ছড়িয়ে পড়ছে। এর মাঝে আমরা কোলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় আবার দেশে আসি। এখন মেয়ের পা ফুলে মোটা হয়ে গেছে। পেটও ফুলে গেছে। ব্যথ্যায় অস্থির হয়ে গেছে। সামান্য পানি ছাড়া কিছুই খেতে পারছে না। আমার মেয়েটা সব সময় মানুষের সেবায় কাজ করেছে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত সাদিয়া সুলতানার সহপাঠী মারজিয়া আফরোজ মিলি জানান, তারা কলেজের বন্ধু বান্ধব মিলে প্রায় লাখ টাকার মতো জোগাড় করেছেন। যা দিয়ে চিকিৎসার খরচ চলছে। সহপাঠীরা সাধ্যমত চেষ্টা করছেন।

ঢাকা উত্তর সিটির ৪৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈমও আর্থিক সহায়তার জন্য সবার কাছে আর্জি জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় মেধাবী এই শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ব্যয় মেটানো সম্ভব। আমাদের একটু সহযোগিতায় ক্যানসারকে জয় করে আবারো প্রাণোচ্ছ্বল হয়ে ওঠতে পারে সাদিয়া। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে