Alexa অন্ধ চার ভাইয়ের জীবনযুদ্ধ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২১ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৭ ১৪২৬,   ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

অন্ধ চার ভাইয়ের জীবনযুদ্ধ

হারুন আনসারী, ফরিদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৮ ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউপির আটকাহনিয়া গ্রামের আবু বকর মুন্সীর চার ছেলে আ. আজিজ মুন্সি, ওহিদুজ্জামান, ইকবাল হোসেন ও জামাল উদ্দিন। একমাত্র মেয়ে সোনিয়া আক্তার।

জন্মের সময় দৃষ্টি শক্তি থাকলেও শৈশব পার না হতেই তারা সবাই অন্ধত্ব বরণ করেন। এ অবস্থায় হার মানতে নারাজ তারা। শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ইচ্ছে শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যত রচনার পথে প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাচ্ছেন জীবন সংগ্রাম। গাভী পালন করে তারা স্বাবলম্বী হতে চাইছেন।

আবু বকর মুন্সি এরইমধ্যে মারা গেছেন। তার স্ত্রীও বেঁচে নেই। একমাত্র মেয়ে সোনিয়ার বেগমেরও বিয়ে হয়ে গেছে।

বড় ছেলে আজিজ মুন্সির বয়স প্রায় ৫৫। তিনি জানান, জন্মের পর শিশু বয়সেই তারা সব ভাইবোন একে একে অন্ধ হয়ে যান। বাবা ছিলেন দরিদ্র কৃষক। চিকিৎসা করাতে পারেননি। অন্ধ হওয়ায় স্কুলে বা মাদরাসাতেও যাওয়া হয়নি।

এরইমধ্যে আবু বকর মুন্সির সব ছেলে বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত ৭ শতাংশ জমিতে পৃথক চারটি ঘর তুলে চার ভাই পরিবার নিয়ে থাকেন। সবারই স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। যারা তাদের এ কাজে সব ধরনের সহায়তা করেন।

আজিজ মুন্সি জানান, ছোট বেলায় ক্ষেতে খামারে কাজ করেছেন। তবে আস্তে আস্তে দৃষ্টি শক্তি একেবারেই চলে যাওয়ায় অবলম্বন হিসেবে গাভী পালন শুরু করেন তারা। পরিবারের নারী সদস্যরা তাদের বিরাট সহায়তা করেন।

ছোট ছেলে জামাল মুন্সির বয়স এখন ৪২ প্রায়। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেক ভাইয়ের দুটি করে গাভী আছে এবং প্রতিটি গাভী থেকে  প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার দুধ পাই। সেই দুধ বাজারে বিক্রি করে গাভির খাবার কিনি। বাকি যে টাকা থাকে তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। এভাবে খেয়ে পড়ে আমরা বেঁচে আছি। তবে ভবিষ্যতের সম্বল বলতে কিছু করতে পারিনি এখনো।

আজিজ মুন্সি বলেন, এখনতো আমাদেরও বয়স হয়েছে। শরীরের কর্মক্ষমতা বেশি কাল থাকবে না। এজন্য এখন থেকেই সম্বল বাড়ানো উচিত। যেটা এখনো আমরা পারছিনা।

সরকার থেকে এই পরিবারের সদস্যদের  প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া হয়। এর বাইরে বিশেষ কোনো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। 

আজিজ মুন্সিদের এই অন্ধ চার ভাইয়ের জীবন সংগ্রামের অন্যতম সহায়ক তাদের শিশু সন্তানেরা। যারা গরুর ঘাস কাটে। দুধ বিক্রি করতে বাবাকে হাত ধরে নিয়ে যায় বাজারে। ক্রেতার কাছ থেকে টাকা গুনে নেয়। এসব কাজের মধ্য দিয়েই বেড়ে উঠছে তারা। স্কুল-মাদরাসা বা পড়াশুনা তাদেরও হচ্ছে না বাবা-চাচাদের মতোই।

এ ব্যাপারে কোদালিয়া শহীদনগর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, একই পরিবারের সবার এমন অন্ধত্ব বরণ সত্যিই খুব দুঃখজনক। আমরা তাদের বিপদে আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করি। সরকার তাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ ও তাদের অক্ষমতার বিষয়টা বিশেষভাবে বিবেচনা করে কোনো বিশেষ উদ্যোগ নিলে ভালো হয়। সমাজের সামর্থ্যবানদেরও এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি।

ইউএনও আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, চার ভাইকে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসন তাদের পাশে রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ