Alexa অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালাবে আওয়ামী লীগ

ঢাকা, রোববার   ২১ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৬ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালাবে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৩ ১১ জুলাই ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের আগে শুরু হচ্ছে দলের মধ্যে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান। জেলা-উপজেলার কমিটির মধ্যে যেন কোনো সুবিধাবাদী বা অনুপ্রবেশকারী না থাকে এজন্য নজরদারি করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দল হিসেবে সুবিধা নিতে অনেকেই দলের মধ্যে অনুপ্রবেশ করছে বলে ধারণা করছেন দলের নীতিনির্ধারকদের। এজন্য তৃণমূলের সব কমিটিতে নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা।

তৃণৃমূলে  কমিটির সব সদস্যদের  চিহ্নত করতে শক্তিশালী ডেটাবেজ করছে আওয়ামী লীগ। কাউন্সিলে অনুপ্রবেশ বা অন্যদল থেকে আসা কোনো লোক যেন পদ না পায় সে দিকেও ডেটাবেজের মাধ্যমে লক্ষ্য রাখা হবে। এজন্য তৃণমূলের আওয়ামী লীগের সব কমিটির প্রতিনিধি ও সদস্যদের জীবন বৃত্তান্ত এবং তার বাবা মায়ের বা তার স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা তার আত্মীস্বজনের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ স্থায়ী ঠিকানা দিতে হবে। এসব তথ্য ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে অনুপ্রবেশকারীদের সহজেই চিহ্নত করা যাবে বলে মনে করছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় আছে, তাই সুবিধা নিতে বা সুসময়ের দলের মধু খেতে অনেকই সুযোগ খোঁজে। এরা দলের মধ্যে প্রবেশ করে, দলের  ডিসিপ্লিন ব্রেক করতে পারে, দলের বদনাম করতে পারে। এজন্য আমরা সর্তক আছি। তাই আমরা এর লাগাম টেনে ধরতে চাই। বিতর্কিত ব্যক্তিদের যারা দলে আনবে তাদের বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ বিষয়ে ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কেউ এমপি, মন্ত্রী হয়ে দলের বিরুদ্ধে কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলে প্রবেশ করতে এসব সুবিধাভোগী লোকদের যে সুযোগ করে দেবে তাকেও জবাবদিহি করতে হবে।

আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আওয়ামী লীগের ২১ম জাতীয় কাউন্সিল। এজন্য সব জেলা উপজেলা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোর কাউন্সিল করার নিদের্শ দিয়েছে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। আর এ বিষয়ে আটটি কমিটি করেছে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ। এসব কমিটির দায়িত্বে আছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা। তারা জানিয়েছেন জাতীয় কাউন্সিলের আগে দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে শক্ত অবস্থানে আছে দল। গত ১০ বছরে দলে যেসব সুবিধাবাদী প্রবেশ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, দল ক্ষমতায় থাকার কারণে কিছু নতুন লোক ঢুকেতে পারে। যারাই ঢুকছে তারা আওয়ামী লীগের আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি কতটুকু শ্রদ্ধাশীল তা যাচাই করে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার আগে ভালো করে সেটা খোঁজখবর নিতে হবে। তবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী নয় এ ধরনের কোনো ব্যক্তিকে দলে আনা যাবে না। যদি কেউ আনে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/এস