অনিশ্চয়তার পথে চাঁদপুর মেরিন একাডেমি

ঢাকা, বুধবার   ২২ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪২৬,   ১৬ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

অনিশ্চয়তার পথে চাঁদপুর মেরিন একাডেমি

 প্রকাশিত: ১৪:৩৯ ১০ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৫:৪৯ ২৩ নভেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে অনিশ্চয়তার পথে চাঁদপুরে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির শিক্ষা কার্যক্রম।

২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়ে প্রতিষ্ঠার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক, ক্রাফট ইনস্ট্রাকটরের খেলার মাঠ, মসজিদ, শিক্ষকদের জন্য স্থায়ী আবাসিক ব্যবস্থাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। যার ফলে এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে সরকারের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অধীনে দেশের ৩৫ জেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মেরিন ইনস্টিটিউট স্থাপিত হয়।

এ প্রকল্পের আওতায় দেশের শুধুমাত্র পাঁচ জেলায় মেরিন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশের পাঁচটি জেলার মধ্যে চাঁদপুর-রায়পুর সংযোগ সেতুর পাশে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুর মেরিন একাডেমি নামে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

চাঁদপুরে মেরিন টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা হলে সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থী এখানে পড়তে আসে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী থাকলেও অবকাঠামাতোগত নানা সমস্যার কারণে বিঘ্ন হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে তিনটি ব্যাচে ৩শ’ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক ও সরঞ্জামাদি। প্রতিষ্ঠানটিতে ১শ’টি পদ থাকলেও মাত্র ৩৫ জন শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও কর্মচারি কর্মরত রয়েছেন।

এরমধ্যে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১৩জন। প্রতিষ্ঠানটিতে ল্যাব পরিচালনার জন্যে ক্রাফট ইনস্ট্রাকটরের প্রয়োজন থাকলেও আজ পর্যন্ত এই পদগুলো শূন্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্যে তিন তলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রবাস থাকলে তত্ত্বাবধানের জন্যে নেই কোনো হল সুপার।

গত ৪ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটিতে গেলে শিক্ষার্থীরা জানান, কারিগরি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে হাতে-কলমে শিক্ষা। কিন্তু আমরা ব্যবহারিক ক্লাস থেকে বঞ্চিত রয়েছি। প্রশিক্ষক, ক্রাফট ইনস্টাক্টর, পল্লী বিদ্যুতের সমস্যার কারণে আমরা পাঠগ্রহণ থেকে পিছিয়ে পড়েছি। পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলে আমাদের ফলাফল আরও ভালো হতো।

প্রতিষ্ঠানটির ইলেক্ট্রিক্যাল বিষয়ের প্রশিক্ষক মো. সিরাজুল আবেদীন পারভেজ বলেন, ‘আমাদের ৯টি ল্যাব রয়েছে। ল্যাব পরিচালনা করার জন্যে পর্যাপ্ত উপকরণও রয়েছে। কিন্তু ল্যাব পরিচালনায় যিনি সহযোগিতা করবেন, সেই ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টর পদে কেউ নেই।

প্রশিক্ষক বলেন, এখানে শিক্ষার্থীদের তুলনায় শিক্ষক রয়েছে কম। পদগুলো পূরণ হলে পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হতো। আমরা আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ পাঠদান করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি চাঁদপুর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আকরাম আলী বলেন, ‘আমি দেড় মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। বর্তমানে আমাদের শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে একথা সত্য। প্রয়োজনের তুলনায় অনেক অল্প জনবল দিয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছি। আমরা শিক্ষার্থীদের যেভাবে পড়াতে চাই, ব্যবহারিক ক্লাস নিতে চাই- তাতে নূন্যতম ২৫জন শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু এখানে আছে মাত্র ১৫জন।’

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, এখানে শিক্ষকদের জন্য কোনো আবাসিক ব্যবস্থা নেই, খেলার মাঠ, সুইমিংপুল, নামাজের জন্য মসজিদসহ অনেক কিছুর সংঙ্কট রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে গ্যাস সংঙ্কট। প্রতি মাসে আমাদের ৫০ হাজার টাকার গ্যাস বিল দিতে হয়।

তিনি এ প্রতিষ্ঠানটির সমস্যাগুলো সমাধানে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ

Best Electronics