অনলাইন ব্যাংক জালিয়াতি চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৪ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪১

Akash

অনলাইন ব্যাংক জালিয়াতি চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০২ ২২ মার্চ ২০২০  

অনলাইন ব্যাংক জালিয়াতির তিন সদস্য মামুন তালুকদার, রাজু ফারাজী ও মো. মিঠু মৃধা

অনলাইন ব্যাংক জালিয়াতির তিন সদস্য মামুন তালুকদার, রাজু ফারাজী ও মো. মিঠু মৃধা

অনলাইন ব্যাংক জালিয়াতি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া টিম। গ্রেফতারকৃতরা হলো- চক্রের প্রধান মামুন তালুকদার এবং তার দুই সহযোগী রাজু ফারাজী ও মো. মিঠু মৃধা।

শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে গতকাল শনিবার ভোর পর্যন্ত চলা অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রতারকরা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার এজেন্ট সেজে গ্রাহকদের কল করে ব্যাংক থেকে তার নতুন কার্ডটি একটিভ করাসহ বিভিন্ন কথা বলে প্রতারণা শুরু করতো।

রোববার ডিএমপির মিডিয়া কর্মকর্তা ডিসি মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

এ সময়ে তাদের কাছ থেকে ব্যাংকিং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সিও গাড়ি, ৭টি বিশেষ অ্যাপসযুক্ত মোবাইল, বহু ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল সিমকার্ড, একাধিক ব্যাংক, বিকাশ, নগদ ও স্ক্রিল অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে সাইবার ব্যাংক প্রতারক চক্রের প্রধান মামুনকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার সহযোগী রাজুকে একই দিন ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে এবং গতকাল ভোরে মিঠুকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রতারক চক্রের প্রতারণা সম্পর্কে ডিসি মাসুদুর রহমান বলেন, বেশ কিছু মাস ধরে এই প্রতারক চক্র অভিনব ও সুনিপুণ কায়দায় বিভিন্ন ডায়লার অ্যাপস দিয়ে কয়েকটি ব্যাংকের হেড অফিসের কার্ড ডিভিশনের মোবাইল নম্বর স্পুফ করে শাখা-ম্যানেজারদের কল দিয়ে আগের মাসের নতুন কার্ড ব্যবহারকারীদের নাম, কার্ড নম্বর এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন। 

ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার এজেন্ট সেজে প্রতারণা সম্পর্কে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, প্রতারকরা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার এজেন্ট সেজে গ্রাহকদের কল করে বলতেন, তারা ব্যাংক থেকে তার নতুন কার্ডটি একটিভ করা বা অন্য কিছু ফিক্স করার জন্য কল করেছেন। এরপর চক্রটি কৌশলে স্পুফড মোবাইল কলের মাধ্যমেই গ্রাহকদের কার্ডের মেয়াদ ৩ থেকে ৪ ডিজিটের সিভিভি কোড এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে মোবাইলের ওটিপি সংগ্রহ করেন। গ্রাহকদের কার্ড থেকে টাকা/ডলার প্রতারকদের লন্ডন ভিত্তিক ই-কমার্স অ্যাপস স্ক্রিল অ্যাকাউন্ট, বিকাশ বা নগদ এ ট্রান্সফার করে। পরবর্তীতে এটিএম বুথ, বিকাশ বা নগদ এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট করতেন। এভাবে দেশের একাধিক শীর্ষ স্থানীয় ব্যাংকের শতাধিক গ্রাহকদের অর্ধ কোটি টাকা চুরি গেলে কয়েকটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ এলে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং কক্সবাজারের প্রায় লক্ষাধিক মোবাইল নাম্বার ও ডায়লার অ্যাপসের আইপি বিশ্লেষণসহ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা হয়েছে।

রোববার গ্রেফতারকৃতদেরকে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে৷

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এমআরকে