অতীত জীবনের গোনাহ মাফের আমল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

অতীত জীবনের গোনাহ মাফের আমল

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৬ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:২৯ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

প্রতিটি ইবাদতেই রয়েছে পবিত্রতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব। ফরজ ইবাদত পালনে পবিত্রতা অর্জন করাও ফরজ। ইসলামের বিধান অনুসারে, ওজু হলো দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গ ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের একটি পন্থা।

ওজু নামাজের চাবি। ওজু ছাড়া নামাজ হয় না। তাই নামাজে দণ্ডায়মান হওয়ার আগে ওজু করতে হয়। 

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فاغْسِلُواْ وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُواْ بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَينِ وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُواْ وَإِن كُنتُم مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاء أَحَدٌ مَّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لاَمَسْتُمُ النِّسَاء فَلَمْ تَجِدُواْ مَاء فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُواْ بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُم مِّنْهُ مَا يُرِيدُ اللّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَـكِن يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

‘হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমণ্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং পদযুগল গিটসহ। যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা প্রবাসে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-অর্থাৎ, স্বীয় মুখ-মণ্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেল। আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান-যাতে তোমরা কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ কর।’ (সূরা: মায়িদাহ, আয়াত: ৬)। 

ওজুর মধ্যে আল্লাহ তায়ালা এত নেয়ামত রেখে দিয়েছেন, যা শুনলে অনেকে হয়তো আশ্চর্যান্বিত হয়ে যাবে। হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘বেহেশতের চাবি হচ্ছে নামাজ, আর নামাজের চাবি হলো ওজু’ (মুসনাদে আহমাদ-৩ : ৩৪০ পৃ.)। 

ওজুর মাধ্যমে  গুনাহ দূর হয়: আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যখন একজন মুসলিম বা মুমিন ব্যক্তি ওজু করে, সে যখন তার চেহারা ধৌত করে পানির সঙ্গে বা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে তার চেহারার গুনাহ সমূহ দূর হয়ে যায় যা তার দৃষ্টি দ্বারা হয়েছে। এমনিভাবে সে যখন তার দু’হাত ধৌত করে তার হাতের গুনাহ সমূহ যা হাত দিয়ে ধরার মাধ্যমে করেছে তা পানির সঙ্গে বা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে দূর হয়ে যায়। আবার যখন দু’পা ধৌত করে পায়ের গুনাহ সমূহ যা পা দিয়ে চলার মাধ্যমে হয়েছে তা পানির সঙ্গে বা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে দূর হয়ে যায়। শেষ পর্যন- সে গুনাহ হতে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে যায়। (মুসলিম)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ওজু থাকা সত্ত্বেও নতুন ওজু করে সে ১০টি নেকি লাভ করে’ (মু.হা. ওজুর ফাজায়েল : ২৫৩)।

ওজুকারী ব্যক্তি হাশরের ময়দানে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত হবেন। হাশরের ময়দানে উপস্থিত সবাই ওজুকারী ব্যক্তির দিকে বারবার তাকাতে থাকবে। ওজুকারী ব্যক্তির হাত-পা ও মুখমণ্ডল চমকাতে থাকবে। হজরত নোয়াঈম মুজমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হোরায়রা (রা.) এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। তিনি ওজু করলেন। তারপর বললেন, আমি রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কেয়ামত দিবসে আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, ওজুর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার ইচ্ছা রাখে সে যেন তা করে নেয়’ (বোখারি : ১৩৮)।

ওজুকারীদের অনেকে দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন। যেমনটি হজরত বেলাল (রা.) পেয়েছিলেন। একবার রাসূল (সা.) ফজরের নামাজের সময় হজরত বেলাল (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে বেলাল! তুমি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ যে আমল করেছ তার কথা আমাকে বলো! কেননা, জান্নাতে আমি তোমার জুতার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। হজরত বেলাল (রা.) বললেন, দিন বা রাতে যখনই আমি ওজু করি, তখনই আমি সামর্থ্য (তাহিয়্যাতুল অজু) অনুযায়ী নামাজ পড়ি। এ ছাড়া আর তেমন কিছুই করি না’ (বোখারি : ১০৮৩)।

ওজু শেষে কালেমা শাহাদাত পাঠকারী ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ! 

ওজুর পর কালেমায়ে শাহাদত পড়া মোস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করার পর-

উচ্চারণ: ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহু।’

অর্থ : ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।’

-বলবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে। সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে। (সহিহ মুসলিম : ১/১২২, (মুসলিম মিশকাত)।

অন্য আরেক বর্ণনায় কালেমায়ে শাহাদাত পড়ার সময় আকাশের দিকে তাকানোর কথাও আছে। তাই সম্ভব হলে এর ওপর আমল করা ভালো। (সুনানে আবু দাউদ : ১/২৩)।

তারপর এ দোয়াটি পড়া-

‘আল্লা-হুম্মাঝআ’লনি মিনাত তাউয়্যাবিনা ওয়াঝআ’লনি মিনাল মুতাত্বাহহিরিন।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভূক্ত করুন এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের মধ্যে শামিল করে নিন।’ (তিরমিজি, মিশকাত)।

সুতরাং আল্লাহ তায়ালা ওজুর পর উক্ত দোয়াগুলো পড়ার মাধ্যমে দুনিয়াতে উত্তম রিজিক, মৃত্যুর পূর্বে গোনাহ মাফ এবং আখিরাতে জান্নাত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে