অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা

ঢাকা, রোববার   ১৯ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৬,   ১৪ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা

 প্রকাশিত: ২১:০৯ ৯ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২১:০৯ ৯ নভেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দিকনির্দেশনার অভাবে বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকেই ভর্তির সুযোগ পান না। চলুন জেনে নিই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার প্রক্রিয়া।  

প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করবেন, নাকি পিএইচডি করবেন। 

এরপর বাছাই করবেন কোন প্রোগ্রামে যেতে চান। এখন প্রোগ্রাম বাছাই করবার জন্য যেতে হবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে। সেখানে সকল কোর্স এ টু জেড দেয়া আছে। সেখান থেকে আপনার পছন্দমত কোর্সগুলোকে বাছাই করে নিয়ে সেই কোর্সগুলোর ওয়েবপেজ দেখেন। 

যদি বলা থাকে ৪ এর মধ্যে সিজিপিএ ৩.৪ চায়, অথবা ৩.৬ চায় অথবা ৩.৮ চায় সেক্ষেত্রে টেনশন করার কিছু নাই। কারণ আমেরিকান সিজিপিএ সিস্টেম আমাদের দেশে ফলো করা হয়। আপনার সিজিপিএ দিয়েই হবে। যদি সিজিপিএ চায় ৩.৬ আর আপনার সিজিপিএ এর নিচে থাকে, তাহলে এপ্লাই করবেননা। 

তবে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক। আইইএলটিএস স্কোর ৭.৫ এবং প্রতিটি কমপোনেন্টে ৭ অথবা তার উপরে।

স্টেটমেন্ট অফ পারপাস, সিভি বানানোর নিয়ম, রিকমেন্ডেশন লেটার সংগ্রহের নিয়ম সবই মোটামুটি একই, তবে তারা দেখতে চায় আপনি অলরাউন্ডার এবং লক্ষ্যে ফোকাসড কিনা। নিজের সকল ইউনিক গুণাবলী তুলে ধরবেন, যা অন্যদের থেকে আপনাকে আলাদা করবে। তারা এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিজ এর উপরে খুব গুরুত্ব দেয়, যদি দেখাতে পারেন সিভিতে এবং SOP তে এর কিছু কাহিনী লিখে দিতে পারেন তাহলে খুবই ভালো হবে। 

 পিএইচডি’র ক্ষেত্রে যদি আগে একজন সুপারভাইজার ম্যানেজ করতে পারেন আর যদি তিনি নিতে রাজি থাকেন  তাহলে আপনার অক্সফোর্ডে চান্স পাওয়া এবং কম্পিটিশনের ক্ষেত্রে বাঁধা নাই। ইমেইল করলেও খুব একটা লাভ হয়না।   পিএইচডির অফার পাওয়া সম্পূর্ণরূপে সুপারভাইজরের উপর নির্ভরশীল।  ইমেইলে চেষ্টা করে, রেস্পন্স পেলে এরপর কিছুদিন প্রফেসরের সাথে আরএ হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। এরপর প্রফেসর রাজি হলে পিএইচডি এর অফার পাওয়া সহজ হবে। 

তারপর মাস্টার্সের ক্ষেত্রে আপনার এপ্লিকেশন শর্টলিস্টেড হলে আপনার ইন্টারভিউ নেয়া হবে। ইউকে অথবা ইইউ এর ক্যান্ডিডেট হলে আপনাকে অক্সফোর্ডে গিয়ে ইন্টারভিউ দিতে হয়। আর ওভারসিজ ক্যান্ডিডেট হলে তারা স্কাইপিতে ইন্টারভিউ নেয়।  

 আপনার কাজের উপরে ছোট্ট একটা প্রেজেন্টেশন দিতে বলতে পারে, অথবা আপনার পূর্ববর্তী রিসার্চ কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারে। আবার অনেকের পেপার থাকেনা বেশী। তাদেরকে প্রেজেন্টেশন দিতে বলে তার সর্বশেষ রিসার্চ প্রজেক্টটির উপরে।  

 তবে ফেইক কিছু করা যাবেনা। আপনি হয়ত একটা কাজ করেননি, অথচ সিভিতে/এসওপি তে লিখেছেন, আর তাদের সন্দেহ হয়েছে, তাহলেই সেটা নিয়ে প্রশ্ন করে ইন্টারভিউতে।  

সাধারণত: পিএইচডির ক্ষেত্রে তেমন কোনো ইন্টারভিউ দিতে হয়না। একজন প্রফেসর নিতে রাজি থাকলেই কাজ হয়ে যায়। আন্ডারগ্র্যাড আর মাস্টার্সে এডমিশন প্রচন্ড প্রতিযোগীতামূলক পিএইচডি এর তুলনায়।

অক্সফোর্ডে পড়ার খরচ অনেক বেশী। যদি ডিসেম্বর ডেডলাইনে এপ্লাই করেন, তাহলে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অনেকগুলো ফান্ডিং এ এপ্লাই করতে পারবেন আপনার মূল আবেদনের সাথে।  তবে আপনার কোর্স অথবা ডিপার্টমেন্টের যদি কোনো ফান্ডিং থাকে, তাহলে তারা আপনাকে সহযোগিতা করতে পারে।  

পিএইচডির ক্ষেত্রেও তাই। অনেক প্রোগ্রামেই ফান্ডিং থাকে, অনেকটাতেই থাকেনা। যদি আপনার সুপারভাইজরের ফান্ড থাকে, আর আপনাকে তার খুবই পছন্দ হয়, তাহলে আপনাকে ফান্ড দিয়ে দিবে।  

 অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে মেইন আবেদনের সময়ে আপনাকে একটা কলেজ চয়েজ করতে বলবে, কলেজ চয়েজ এই পার্শিয়াল ফান্ডিং এর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই কলেজের থাকা খাওয়ার রেট দেখে চয়েজ দেয়। এই ভুল জীবনেও করবেননা। কলেজে কত প্রকারের ফান্ডিং ও স্কলারশিপ আছে সেটা দেখে এরপর কলেজ চয়েজ দিবেন। এটাও বেশ রিসার্চের বিষয়। অক্সফোর্ডের কিছু কলেজকে ধনী কলেজ বলা হয়, কারণ প্রচুর ফান্ডিং ও স্কলারশিপ আছে (পার্শিয়াল)। একটু গুগল সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন এই কলেজগুলোর নাম এবং মূল আবেদনের সময়ে সে অনুযায়ী চয়েজ দিবেন।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে ফান্ডিং ডিক্ল্যারেশন চায়, একমোডেশন প্রেফারেন্স চায়। এগুলো সময়মত করবেন। দেরি করে করলে ঝামেলা হয়ে যাবে, পরে মনমত বাসা পাবেননা। এখানে বাসাভাড়া খুবই বেশী। আর কলেজের অন সাইট একমোডেশনগুলো আগেই বুক হয়ে যায়। আর নির্দিষ্ট পেমেন্ট ডেটের মধ্যে অবশ্যই সম্পূর্ণ টিউশন ফি পে করে দিবেন। সবশেষে বলব, অক্সফোর্ডে এসে পৌঁছানো কঠিন হলেও, একবার ঢুকে গেলে খুবই সহজ।  সুতরাং ঘাবড়ানোর কিছু নাই। সফল হোক আপনার অক্সফোর্ড-এ পড়ার স্বপ্ন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ

Best Electronics