Alexa ইনজেকশন পুশ করতেই ছটফট করে মারা গেল প্রসূতি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৬ ১৪২৬,   ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

ইনজেকশন পুশ করতেই ছটফট করে মারা গেল প্রসূতি

দিনাজপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৯ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:১৩ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ইনজেকশন পুশ করতেই ছটফট করে মারা গেল এক প্রসূতি। এই অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুর শহরের কালিতলায় এইচকে মাদার কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় ওই হাসপাতালে রোগীর স্বজনেরা চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। 

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হযরত আলীর ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিউটি আরা নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। 

মারা যাওয়া প্রসূতি দিনাজপুর সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ উত্তর বংশিপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের স্ত্রী। 

শনিবার ভোরে প্রসব ব্যথা উঠলে পরিবারের লোকজন শহরের এইচ কে মাদার কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রসূতিকে ভর্তি করান। পরে সকালে ওই প্রসূতির সিজার করান চিকিৎসক ডা. হযরত আলী। সিজারের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। বেলা ১১টার দিকে রোগীকে ইনজেকশন পুশ করার কিছুক্ষণ পরেই ছটফট করতে করতে মারা যায় বিউটি আরা।

এ সময় রোগীর স্বজনেরা কি ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে তা জানতে চাইলে রোগীর ফাইলপত্র নিয়ে চলে যায় স্টাফরা। পরে তাদেরকে আর কাগজপত্র দেয়া হয়নি। এতে ভুল ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ করে পরিবার ও স্বজনেরা চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করে। পরে রোগীর অন্যান্য আত্মীয় স্বজনেরা উপস্থিত হলে হাসপাতালের চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

এর আগেও ওই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। 

রোগীর স্বজনেরা বলেন, ইনজেকশন পুশ করার পরই রোগী ছটফট করতে করতে মারা যায়। তবে কি এবং কেন ইনজেকশন পুশ করানো হয়েছিল তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ। 

নিহতের বড় বোন ফাতেমা বেগম বলেন, আমার বোনকে ভর্তি করার পর অপারেশন করান ডা. হযরত আলী। ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। রোগীর সঙ্গে কথাও বলা হয়, এ পর্যন্ত রোগী ভালো ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে রোগীকে একটি ইনজেকশন পুশ করার পরে ছটফট করে মারা যায়।

নিহতের আরেক বোন বিলকিস বেগম বলেন, ইচ্ছা করেই রোগীকে মেরে ফেলা হয়েছে। ইনজেকশন দেয়ার পরপরই মারা যায়। কিন্তু কি ইনজেকশন দেয়া হয়েছে সেটি দেখতে চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানায়নি। রোগীর সঙ্গে থাকা ফাইলটি গায়েব করে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডা. হযরত আলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না। আপনারা কি লিখবেন লিখেন। কি ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল এবং রোগীর ফাইলপত্র দেয়া হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্ন করা হলেও উত্তর দেননি তিনি। 

দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুছ কুদ্দুছ বলেন, এইচ কে মাদার কেয়ার হাসাপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনেক আগের অনুমোদন থাকলেও তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। বারবার বলার পরও অনুমোদনের জন্য আবেদন কিংবা নবায়নের জন্য আবেদন করেননি কর্তৃপক্ষ। এর আগেও সেখানে রোগীর মৃত্যু হয়েছিল এবং এ ব্যাপারে শোকজ করা হলেও সেই জবাবও সঠিকভাবে দেয়নি। ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসা সেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। 

এ ব্যাপারে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) বজলুর রশিদ বলেন, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের সংবাদ পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ প্রেরণ করা হয়েছিল। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি রোগীর স্বজনরা। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পুলিশ সেখানে যাওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। 

গত ২২ অক্টোবর রাতে ওই চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় সদর উপজেলার ৩ নম্বর ফাজিলপুর ইউপির উত্তর হরিরামপুর গ্রামের মুনতাহীনা পারভীন নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপারেশনের সময় রোগীর কিডনি কেটে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোর মামলায় তার ৯ বছর সাজাও হয়েছিল। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এআর